তীব্র গরমে ঘরের বাইরে ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম উত্তাপে জোর করে শরীরচর্চা করলে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা যেমন বাড়ে, তেমনি গরমের ভয়ে শারীরিক কর্মকা- একবারে বন্ধ করে দিলে দীর্ঘমেয়াদে তা অকাল মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আসলে গরমে ব্যায়ামের সময় শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখতে রক্তপ্রবাহকে পেশি থেকে সরিয়ে ত্বকের দিকে নিয়ে যায়। ফলে পেশিতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয় এবং শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রেখে সচল থাকার কিছু সহজ কৌশল জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
গরমের দিনে শরীরচর্চার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সময় পরিবর্তন করা। দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে ভোর কিংবা সন্ধ্যার শীতল আবহাওয়ায় ব্যায়াম করা উচিত। সরাসরি সূর্যের আলোর চেয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে তাপমাত্রা প্রায় ১২-১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকে। পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্দ্র ও বাতাসহীন জায়গায় ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এমন আবহাওয়ায় ঘাম শুকাতে না পেরে শরীর দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তীব্র গরমের দিনগুলোতে ব্যায়ামের সময়সীমা কমিয়ে আনা, মাঝে মাঝে ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা স্থানে বিরতি নেওয়া এবং প্রয়োজনে ঘরের ভেতরে হালকা হাঁটাচলা করা অনেক বেশি নিরাপদ।
শরীরকে দ্রুত ঠান্ডা করতে কেবল আইস প্যাক ব্যবহারের চেয়ে হাত ও কনুই ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখা কিংবা শরীরে পানি ঢেলে দেওয়া বেশি কার্যকর। এ ছাড়া ব্যায়াম শুরুর আগে ঠান্ডা পানি বা বরফমিশ্রিত পানি পান করলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। নতুন আবহাওয়ায় অভ্যস্ত হতে শরীরকে অন্তত এক-দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া উচিত, যা ধীরে ধীরে গরম সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ায়। তবে শরীরচর্চার সময় মাথা ঘোরানো, বমি বমি ভাব বা বুক ধড়ফড় করার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করে শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা করতে হবে।

