ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

নীরবে শ্রবণশক্তি সুরক্ষায়...

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৬:২১ এএম

মানুষের কানের ভেতরের সূক্ষ্ম কোষগুলো একবার নষ্ট হয়ে গেলে তা আর কখনোই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এতে চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে শ্রবণশক্তি। আগে সাধারণত বয়স্কদের এই সমস্যা হতো, তবে হেডফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও দৈনন্দিন উচ্চ শব্দের কারণে এখন শিশু ও তরুণরাও দ্রুত শ্রবণশক্তি হারাচ্ছে।

নীরব ঘাতক হেডফোন ও কনসার্ট : লাইভ কনসার্ট বা স্টেডিয়ামের আওয়াজ কানের জন্য এতটাই ক্ষতিকর যে, মাত্র ১০-১৫ মিনিটেই স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই এসব জায়গায় ‘হাই-ফিডেলিটি ইয়ারপ্লাগ’ ব্যবহার করা উচিত। তবে সবচেয়ে বড় হুমকি হলো হেডফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। হেডফোন ব্যবহারের সময় যদি পাশের মানুষের স্বাভাবিক কথা শুনতে না পাওয়া যায়, তবে বুঝতে হবে ভলিউম ক্ষতিকারক মাত্রায় আছে।

গৃহস্থালি ও রাস্তায় চলাচলের ঝুঁকি : ঘাস কাটার যন্ত্র, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার কিংবা ড্রিল মেশিন ব্যবহারের সময় কানে সুরক্ষামূলক ‘ইয়ারমাফ’ পরা জরুরি। এ ছাড়া, হাইওয়েতে গাড়ির জানালা খোলা রেখে গাড়ি চালালে বাতাসের প্রচ- বেগ কানের একপাশের শ্রবণশক্তি নষ্ট করে দিতে পারে। এর ওপর বাতাসের শব্দের কারণে রেডিওর ভলিউম বাড়িয়ে দিলে ক্ষতিটা দ্বিগুণ হয়।

অতিরিক্ত ইয়ারপ্লাগ ব্যবহারের সতর্কতা : কানে ঘনঘন ইয়ারপ্লাগ বা কটন বাড ঢোকালে কানের খইল বা ময়লা উল্টো ভেতরের দিকে চলে যায়। এতে কানের পর্দা অবরুদ্ধ হয়ে শ্রবণশক্তি সাময়িক কমে যেতে এবং ইনফেকশন হতে পারে। কান মূলত তার ভেতরের ময়লা নিজে নিজেই বাইরে বের করে দেয়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কানে কিছু ঢোকানো উচিত নয়।

কখন পরীক্ষা করাবেন : যেকোনো বয়সেই যদি কোলাহলপূর্ণ স্থানে অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হয়, তবে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে, উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে আসার পর যদি কানে ভোঁ-ভোঁ বা ঝিঁঝি শব্দ হয়, তবে তা শ্রবণশক্তি হারানোর পূর্বলক্ষণ। প্রথম লক্ষণ দেখামাত্রই ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সূত্র : বিবিসি।