বরিশালের বাবুগঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মহড়ায় তিনি জঙ্গলে পরিচালিত যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুশীলন, সেনাসদস্যদের কৌশলগত প্রস্তুতি এবং অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন। মহড়ার সময় দুর্গম ও ঘন জঙ্গলে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুকরণে পরিচালিত বিভিন্ন কৌশলগত অনুশীলনও প্রধানমন্ত্রী ঘুরে দেখেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং সেনাবাহিনীর কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত একটি অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে এ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে ব্রিফ করেন বলে জানান রুমন।
মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’
তিনি বলেন, সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা মানুষের মনে বাহিনীর প্রতি ‘বিশেষ মর্যাদা’ তৈরি করেছে। সেই আস্থা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি একটি সেনা পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। ফলে সেনাসদস্যদের কাছে এলে তার শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতে দেশের সীমানার বাইরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং পেশাগত উৎকর্ষ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। তিনি তাদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিছু সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কাটান এবং তাদের প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।
মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে রান্না করা খাবারও খেয়ে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে রান্না করা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি তাকে পরিবেশন করা হয়।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন।

