আমরা অনেকেই ভেবে থাকি, একবার চশমা বানালেই বুঝি বছরের পর বছর সেটিই ব্যবহার করতে পারব। কিন্তু বাস্তবতা হলোÑ বয়স, চোখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন অভ্যাসের কারণে সময়ের সঙ্গে চশমার পাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। আর সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত শরীর আগেই দিতে শুরু করে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শৈশব ও কৈশোরে চোখের বৃদ্ধি চলমান থাকায় এ সময় পাওয়ার পরিবর্তনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। এরপর সাধারণত ৪০ বছরের পর শুরু হয় আরেকটি বড় পরিবর্তন। তখন কাছের জিনিস স্পষ্ট দেখতে অসুবিধা হওয়ার সমস্যা ধীরে ধীরে দেখা দেয়। তাহলে কীভাবে বুঝবেন আপনার চশমা বদলানোর সময় হয়েছে? বিশেষজ্ঞের মতে, নিচের লক্ষণগুলো অবহেলা করা উচিত নয়।
বারবার মাথাব্যথা : যদি নিয়মিত মাথাব্যথা হয়, বিশেষ করে পড়াশোনা, মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারের পর চোখের চারপাশ ভারী লাগে, তাহলে সেটি ভুল পাওয়ারের চশমা ব্যবহারের লক্ষণ হতে পারে।
খুব কাছে এনে বস্তু দেখতে হয় : শিশু যদি টেলিভিশনের একেবারে কাছে বসে, বই চোখের কাছে ধরে পড়ে বা শ্রেণিকক্ষের বোর্ড দেখতে কষ্ট হয়, তাহলে তার মায়োপিয়া বা দূরের দৃষ্টি সমস্যার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
চোখ কুঁচকে দেখার অভ্যাস : দূরের লেখা বা কোনো বস্তু পরিষ্কার দেখতে বারবার চোখ কুঁচকে দেখতে হলে বুঝতে হবে বর্তমান চশমা হয়তো আর যথেষ্ট কার্যকর নয়।
চোখে অতিরিক্ত চাপ বা ক্লান্তি : প্রায়ই চোখ ঘষতে ইচ্ছা করা, দীর্ঘক্ষণ পড়তে বা স্ক্রিনে কাজ করতে অস্বস্তি হওয়া, চোখ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাওয়া কিংবা মনোযোগ ধরে রাখতে না পারাও পাওয়ার পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।
বই বা মোবাইল ফোন দূরে সরিয়ে পড়তে হয় : ৪০ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে যদি মোবাইল ফোন, সংবাদপত্র বা ওষুধের গায়ের লেখা পড়তে বারবার দূরে সরিয়ে ধরতে হয়, তাহলে এটি প্রেসবায়োপিয়া বাড়ার লক্ষণ হতে পারে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞের মতে, অনেকেই এসব লক্ষণকে স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু সময়মতো চোখ পরীক্ষা না করালে শিশুদের পড়াশোনায় সমস্যা, কর্মজীবীদের কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় চোখের চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করলে ছানি, গ্লুকোমাসহ বিভিন্ন চোখের রোগও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ : চোখে কোনো সমস্যা অনুভব করলেই দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এমনকি কোনো উপসর্গ না থাকলেও শিশু এবং ৪০ বছরের বেশি বয়সিদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো চোখের সুস্থতা বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

