ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

বরিশালে জামায়াত আমির

গণভোটের রায় না মানলে ঢাকায় মহাসমাবেশ

বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৩:২৫ এএম

গণভোটের রায় মানতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান। আগামী ২৫ জুলাইয়ের আগে গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশ করারও আল্টিমেটাম দিয়েছেন তিনি।

গতকাল শনিবার বরিশালে বান্্দ রোড কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১-দলীয় জোট আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আল্টিমেটাম দেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আবার গর্জে উঠব, অধিকার আদায় করেই ছাড়ব। ভুল পথ থেকে ফিরে আসুন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। আগামী ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশের আগেই গণভোটের রায় মেনে নিন। নতুবা রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন শাসনব্যবস্থা চাই, গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন চাই। কিন্তু মেকানিজম করে ক্ষমতায় গিয়ে সরকার গণভোটের রায় ভুলে গেছেন। সংসদে একজন অবৈতনিক শিক্ষক আছেন, যিনি সংসদে প্রায়ই সংবিধান শেখান। প্রতারণা করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন। আপনারা ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছেন। এটা জাতির সঙ্গে বিশ^াসঘাতকতা।’

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার তাগিদ দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘ফরিদপুরের ভাঙ্গার পর পুরো রাস্তা ভাঙা, ভোলাবাসীর ন্যায্য দাবি ব্রিজ দিতে হবে, রেললাইন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অধিকার। বরিশালকে বঞ্চিত রেখে দেশের সুষম উন্নয়ন হবে না।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি, নিয়োগ বাণিজ্য চলছে। যারা নির্বাচনের আগে ওয়াদা দেন এক রকম আর কাজ করেন ভিন্ন, তারাই মুনাফিক।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে গণআন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হব। আমরা এখনো হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি দিইনি।’  নাহিদ আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছল না। যেই গণভোটের পক্ষে তিনি হ্যাঁ-এর প্রচারণা করলেন, সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। অথচ মুখে বলে যাচ্ছেন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন।’

‘বিএনপি গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে লড়াই করে যাচ্ছে’, বলেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘আসল কথাÑ বিএনপি কখনো জনগণের পক্ষে ছিল না, তারা লড়াই করেছিল ক্ষমতার জন্য, স্বার্থ হাসিলের জন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকারকে বলতে চাই, সংবিধান সংশোধনের নামে কোনো প্রহসন বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।’

সমাবেশে এর আগে বক্তব্য দেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ফেরার কোনো সুযোগ নেই, তাদের উসকানিমূলক বক্তব্যে আমরা কান দেব না। আমরা চাই এ দেশ থেকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মাস্তানি নির্মূল হোক।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, ‘বিচার ও সংস্কারকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য তারা (বিএনপি) ফ্যাসিবাদীদের মতো উন্নয়নের ধুয়া তুলছে।’

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের গু-ারা বিএনপির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও পৃষ্ঠপোষকতায় ফেরার পাঁয়তারা করছেন। এ অপচেষ্টা সফল হতে দেব না।’

বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘বাকশাল ও ভারতীয় অধিপত্যবাদ থেকে বাঁচার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছিলাম।’

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, ‘যারা কথায় কথায় মিথ্যা কথা বলে, যারা জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করে, তাদের সঙ্গে কোনো আপস নেই।’ 

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, ‘সংস্কার করলে চাঁদাবাজি করা যাবে না, তাই তারা এখন সংস্কারের কথা ভুলে গেছেন।’

এ সময় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নাল আবেদীন, বরিশাল জেলা আমির অধ্যাপক আবদুল জব্বার ও বিএম কলেজের সাবেক এজিএস শেখ নেয়ামুল করিম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, বরিশাল অঞ্চল জামায়াতের টিম সদস্য ফখরুদ্দিন খান রাজী, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা, সদস্যসচিব আবু সাঈদ ফেরদৌস, মহানগর আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ও সদস্যসচিব এম আনোয়ার হোসেন। 

সমাবেশ শুরুর আগে সকাল থেকেই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতাকর্মীরা খ- খ- মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে হাজির হন। দুপুরের আগেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। সকাল ১০টা থেকে স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যের মাঝে উদ্দীপনামূলক কোরাস সংগীত পরিবেশন করেন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ বরিশাল অঞ্চলের আওতাধীন ৬ জেলা ও মহানগরের শিল্পীরা।