ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

নদ-নদীর পানি বাড়ছে উত্তর-পূর্বে, বন্যার শঙ্কা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৬:৩৮ এএম

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা ভারি বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় কুশিয়ারা নদীর পানি দুটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজশাহী বিভাগের আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নওগাঁ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এদিকে আগামী কয়েকদিনও দেশের সব বিভাগে কম-বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বাপাউবোর দেশজুড়ে থাকা ১২৭টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৯টি পয়েন্টে পানি বেড়েছে, ৫০টিতে কমেছে এবং ৮টি পয়েন্টে অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এ ছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসায় ওই এলাকার মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

পূর্বাভাসে জানানো হয়, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী বিভাগের আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এর ফলে আত্রাই নদী নওগাঁর কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি নাটোর, সিরাজগঞ্জ এবং নওগাঁর নদী-সংলগ্ন নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদী-সংলগ্ন নি¤œাঞ্চলগুলোতেও পানি বেড়ে সাময়িক প্লাবন দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন স্থিতিশীল থাকলেও এর আশপাশের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ভেতরে চট্টগ্রামে ১৭৯ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ১০৩ মিলিমিটার, লরেরগড়ে ৮৫ মিলিমিটার, ভাগ্যকূলে ৮১ মিলিমিটার এবং জাফলং ও কক্সবাজারে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের মেঘালয়ের সোহরায় ১০৭ মিলিমিটার ও চেরাপুঞ্জিতে ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি তথ্যের জন্য জাতীয় তথ্য সেবার ১০৯০ নম্বরে (ডায়াল করে) অথবা কেন্দ্রের হটলাইন নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ঢাকাসহ সব বিভাগে বৃষ্টির আভাস : সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকায় ৩০ ঘণ্টায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে; আগামী কয়েকদিনও দেশের সব বিভাগে কম-বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঢাকায় কয়েকদিন ধরেই থেমে-থেমে কম-বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩০ মিলিমিটার এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া বলেন, এখন তো বর্ষাকাল, একটু থেমে একটু বৃষ্টি হবে। খুব ভারি বা অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা ঢাকায় আপাতত নেই। এই এক দিন-দুই দিন এ রকম বৃষ্টি হবে, একটু ক্লাউডি (মেঘলা) থাকবে।

এদিকে ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দেশের কয়েকটি নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।