বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। আগামী বছরের প্রথম দিন থেকে জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এ পদে কে আসছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। এরই মধ্যে কয়েকজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও সাবেক রাষ্ট্রনেতা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিযোগিতা এখনো উন্মুক্ত থাকলেও আর্জেন্টিনার কূটনীতিক রাফায়েল গ্রোসি অন্যদের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রার্থী যাচাই করবে। সেখানে প্রয়োজনীয় সমর্থন এবং স্থায়ী সদস্যদের আপত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নাম সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে। এ কারণে শুধু জনপ্রিয়তা নয়, কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও এই নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এবারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাশেলেট, ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফের্নান্দা এস্পিনোসা, আর্জেন্টিনার কূটনীতিক রাফায়েল গ্রোসি, কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান, গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বার্কেট এবং সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলা এবং দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে গ্রোসি সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তবে রেবেকা গ্রিনস্প্যান ও ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বার্কেটের পক্ষেও উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে। শেষ মুহূর্তে নতুন কোনো চমকপ্রদ প্রার্থীও সামনে আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নাম সমর্থন করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থী নন এবং তাকে নির্বাচনে বিবেচনা করা হবে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। এদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল থেকে এবার প্রথমবারের মতো একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের উন্মুক্ত সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নিরাপত্তা পরিষদের ভোটের মাধ্যমে নতুন মহাসচিব নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিশ^জুড়ে তাই এখন নজর, শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কার হাতে যাচ্ছে।

