ঢাকা সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

গ্যাসের চাপ কমে গেলে পরিকল্পিত রান্না কমাবে ভোগান্তি

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০২:৩৯ এএম

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় নিত্যদিনের রান্না নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজারো পরিবার। কোথাও ভোরে, কোথাও গভীর রাতে গ্যাসের চাপ বাড়ার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। ফলে সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার প্রস্তুত করতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। কর্মজীবী পরিবার, ছোট শিশু কিংবা বয়স্ক সদস্য থাকা পরিবারগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য পরিকল্পনা ও কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্যাসের সংকটের মধ্যেও রান্নার ঝামেলা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

রান্নার সময় কমাতে ডাল, ছোলা কিংবা চাল আগে থেকেই পানিতে ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে। এতে খাবার দ্রুত সিদ্ধ হয় এবং গ্যাসও কম লাগে। একই সঙ্গে রান্নার সময় হাঁড়ির ঢাকনা ব্যবহার করলে তাপ অপচয় কম হয় এবং খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়।

একাধিক পদ আলাদাভাবে রান্না না করে খিচুড়ি, সবজি-ডাল বা এক হাঁড়িতে তৈরি করা যায়Ñ এমন খাবার বেছে নিলে সময় ও গ্যাস দুটোই সাশ্রয় হয়।

রান্না শুরু করার আগেই সবজি কেটে রাখা, মসলা প্রস্তুত করা এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ হাতের কাছে রাখলে চুলা জ্বালিয়ে অযথা সময় নষ্ট হয় না।

বাড়িতে ইন্ডাকশন কুকার, ইলেকট্রিক হটপ্লেট, মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা এয়ার ফ্রায়ার থাকলে গ্যাসের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে এসব যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। চা বানানো, দুধ বা পানি গরম করা এবং খাবার গরম করার মতো কাজ সহজেই এসব যন্ত্রে করা সম্ভব।

গ্যাসের চাপ ভালো থাকলে একবারেই বেশি পরিমাণে ভাত, ডাল, মাংস বা তরকারি রান্না করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে পরে শুধু গরম করেই পরিবেশন করা যায়। এতে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় চুলা জ্বালানোর প্রয়োজন হয় না।

এ ছাড়া দই-চিড়া, ফলের সালাদ, ছোলার সালাদ, স্যান্ডউইচ, ওটস বা দই-ফল মিশিয়ে তৈরি খাবারের মতো চুলাবিহীন বিকল্প খাদ্যও গ্যাস সংকটের সময় কার্যকর হতে পারে।

ডাল, মাংস, আলু ও শক্ত সবজি রান্নায় প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে স্বাভাবিক হাঁড়ির তুলনায় অনেক কম সময় লাগে। ফলে গ্যাসের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

ব্যস্ত পরিবারগুলো আগে থেকেই কাবাব, কাটলেট, নাগেট, পরোটা কিংবা রান্না করা ডাল ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখতে পারে। এতে গ্যাসের চাপ কম থাকলেও অল্প সময়ে খাবার প্রস্তুত করা সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, গ্যাস সংকটের সময় পরিবারের অন্য সদস্যদেরও রান্নার প্রস্তুতির কাজে যুক্ত করলে পুরো প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং সময়ও বাঁচে।