ঢাকা সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

তিস্তায় জিওব্যাগ ফেলার দাবি

ভাঙন রোধে অবহেলার অভিযোগে পাউবো ঘেরাও

রেজাউল করিম মানিক, রংপুর
প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৩:২৬ এএম

রংপুরে চলতি বন্যা মৌসুমে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে জমি, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যকর উদ্যোগ না থাকার অভিযোগ তুলে জিওব্যাগ ফেলার দাবিতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় ঘেরাও করেছেন তিস্তাপাড়ের শতাধিক বাসিন্দা। রোববার নগরীর আলমনগরে পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে তারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে কার্যালয় ঘেরাও করে দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে নদীভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে তিস্তা নদীতে কয়েক দফা ভাঙনে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। কিন্তু বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী বা জরুরি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

চর মিনাবাজারের আব্দুল গোফ্ফার হোসেন বলেন, ‘হামার বাড়িঘর রক্ষা করার জন্য নিজেরাই টাকা তুলিয়া একটা বাঁধ বানাইছিনু। এবারের বানে সেই বাঁধটাও ভাঙি গেইছে। এর সাথে কয়েকটা বাড়িও ভাঙি গেইছে। যখন-তখন হামার বাড়িও ভাঙি যাইবে। পানি উন্নয়নের কর্মকর্তারা হামার কোনো খোঁজখবর নেয় না। সেই জন্য হামরাই আসনো খবর নিবার।’

বাগডোহরা চরের বাসিন্দা গোলজার আহম্মেদ বলেন, ‘এবারের বন্যায় ভেঙে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। বাড়ি ভেঙে গেলে আমরা কোথায় থাকব সেই চিন্তাই করছি। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা চাই চরগুলোর যেখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেখানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন বন্ধ করা হোক।’

চর বিনবিনার মমিনুর রহমান বলেন, ‘সবাই মিলে টাকা তুলে একটি বাঁধ দিয়েছিলাম। সেই বাঁধ এ বছর বন্যায় ভেঙে গেছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালে তারা কয়েকটা বস্তা দেয় শুধু। এলাকায় টাকা তুলে সেই বস্তা ভরে ভাঙন রোধের চেষ্টা করি। কিন্তু এত অল্প বস্তা দিয়ে এত বড় ভাঙন রোধ করা যায় না। আমরা চাই পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার নিয়োগ করে বাঁধগুলো সংস্কার করে দিক।’

গঙ্গাচড়া উপজেলার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের পকেট ভরা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। এদিকে তিস্তার ভাঙনে প্রতিদিন মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। সেদিকে তাদের কোনো খেয়াল নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, বাম ও ডান তীরে কোথাও গুরুতর ভাঙন দেখা দেয়নি। আর যেখানে কিছুটা ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেখানে জিওব্যাগ ফেলে তা রোধ করা হচ্ছে। বাম তীরের ভাঙনের যে অভিযোগ নিয়ে এসেছে, সেটি মূলত নদীর ভেতরের অংশ। সেখানে কিছু মানুষ বসবাস করে। এদিকে, তিস্তা নদীর চর বাগডোগরা, মিনাবাজার, বিনবিনা, কোলকন্দ এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।