দীর্ঘ ২৩ বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে ঘরের মাঠেই বাংলাদেশ ফেরাতে পারবে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট? ঢাকার আকাশে এখন সেই স্বপ্নেরই গুনগুনানি। আগামী নভেম্বরে হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ঘিরে তেমন সম্ভাবনা কি তৈরি হয়েছে? দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি ভারতের মূল দলের অনুপস্থিতি থাকতে পারে এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। আর ফিফার নিষেধাজ্ঞায় থাকায় নেপালের বাদ পড়ার শঙ্কা। এ দুই মিলিয়ে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের সামনে উন্মোচিত হতে পারে ইতিহাস পুনর্লিখনের এক সোনালি দুয়ার।
আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। সাফ যখন টুর্নামেন্টের ক্ষণ গণনা শুরু করেছে, ঠিক তখনই ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাফের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে, অর্থাৎ ১২ ও ১৫ নভেম্বর নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড ও ক্রাইস্টচার্চে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তাদের সিনিয়র জাতীয় দল। দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের শতাব্দীপূর্তি উদযাপনে আয়োজিত এই সিরিজের কারণে ঢাকায় ভারতের মূল ‘ব্লু টাইগার্স’দের আসার পথ কার্যত বন্ধ। সাফে এবার জাতীয় দল না পাঠিয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ বা অলিম্পিক দল পাঠানোর কথা ভাবছে ভারত। নিউজিল্যান্ড সফরের গুরুত্বের কারণে এর বিকল্পও থাকবে না সাফের সবচেয়ে বেশিবার চ্যাম্পিয়ন দলটির সামনে।
অন্যদিকে হিমালয়ের দেশ নেপালের ফুটবলে নেমেছে ঘোর অমানিশা। তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের অভিযোগে গত জুনে নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে সাফে তাদের লাল-নীল জার্সি দেখার সুযোগ নেই বললেই চলে। আঞ্চলিক দুই বড় প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য অনুপস্থিতি হয়তো স্বাগতিক বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে।
২০০৩ সালে ঢাকা স্টেডিয়ামে সাফের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন আমিনুল হক- হাসান আল মামুনুলদের বাংলাদেশ। এরপর ২৩টি বছর কেটে গেছে আক্ষেপে ও ব্যর্থতায়। তবে এবার সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। মে মাসে দায়িত্ব নেওয়া আমেরিকান কোচ থমাস ডুলির অধীনে ইতোমধ্যে বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ। দায়িত্ব নেওয়ামাত্রই সান মারিনোর বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় উপহার দিয়ে ডুলি প্রমাণ করেছেন কৌশলগতভাবে তিনি কতটা পরিপক্ব।

