দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রোববার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) টিএসসি মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে’।
শেকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান, ঢাকা-১৬ আসনের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শুধু ছাত্রদলের প্রতিনিধিদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান বর্জন করেন বাংলাদেশ ছাত্রশিবির শেকৃবি শাখা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
কৃষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, ‘যারা কৃষিতে কাজ করেন, তারা এই দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। তারা এই মাটিকে ভালোবাসেন। মাঠের কৃষক দিনরাত পরিশ্রম করে ফসল ফলান বলেই দেশ টিকে আছে’।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের উপার্জনের একটি অংশসহ দেশের মানুষের দেওয়া করের টাকায় তারা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। তাই দেশের প্রতি দায়িত্বশীল থেকে সেই আস্থার প্রতিদান দিতে হবে’। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবীন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক কৃষিবিদ হিসেবে দেশের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশে বেকারত্ব দূরীকরণে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছে’। তিনি দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ উৎখাতে জেন-জি’র ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না বলেও আশ্বাস দেন।

