গ্রেড ও পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা নিরসনসহ তিন দাবি পূরণে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। এ সময়ের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ চেয়েছেন তারা। যদি তা না হয়, তাহলে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা।
গতকাল শনিবার দিনভর রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মহাসমাবেশ শেষে এ ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের সংগঠনগুলোর মোর্চা ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’। সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ ধরে একাদশ গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, চাকরির ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা নিরসন ও প্রধান শিক্ষকের শতভাগ পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতিসহ দ্রুত পদোন্নতি দেওয়ার দাবিতে এ মহাসমাবেশে সারা দেশ থেকে আসা হাজারো শিক্ষক অংশ নেন। মহাসমাবেশে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে শিক্ষকদের দাবির প্রতি একাত্মতা জানান।
মোর্চাভুক্ত সংগঠন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমরা ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাবি-দাওয়া পূরণে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় দিয়েছি। এ সময়ের মধ্যে শিক্ষকরা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। আমাদের বিশ্বাস, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা হলে আমরা তার কাছে দাবি পূরণের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারব। আর দাবি-দাওয়া পূরণে পদক্ষেপ বা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা না হলে আমরা ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করব।
দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে এ শিক্ষক নেতা বলেন, মামলা জটিলতায় সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত, তাই তারা প্রধান শিক্ষকের শতভাগ পদে পদোন্নতির সুযোগ চাচ্ছেন। উচ্চতর গ্রেড একজন সরকারি চাকরিজীবীর প্রাপ্য হলেও সেটি নিয়েও জটিলতা। আর সহকারী শিক্ষকদের প্রাণের দাবি একাদশ গ্রেডে বেতন। বর্তমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন না দিলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে না।
এদিকে সমাবেশ শেষে তিন দফা দাবি নিয়ে আলোচনা করতে গতকাল বিকেলে কার্যালয়ে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেখা পাননি আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতারা। ফলে দাবি-দাওয়ার স্মারকলিপি দিয়েই সেখান থেকে ফিরে এসেছেন তারা। একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নামের তালিকাও জমা দিয়ে এসেছেন শিক্ষক নেতারা।
বিকেল সোয়া ৪টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ফিরে আসেন শিক্ষক নেতারা। প্রতিনিধিদলের থাকা ঐক্য পরিষদের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, আমাদের সেখানে (প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিক প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি ব্যস্ত আছেন। আমাদের শিক্ষক নেতাদের তালিকা জমা দিয়ে এসেছি। পরবর্তীতে সুযোগ হলে আমাদের জানানো হবে বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের দাবিগুলো লিখিত আকারে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছি। সেই স্মারকলিপি জমা দিয়ে এসেছি। আমরা চাই, প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে দাবিগুলো পূরণে পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
এর আগে একই দাবিতে গত ২৬ মে থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন শিক্ষকরা। দাবি আদায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ৫ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত দিনে ১ ঘণ্টা, ১৬ থেকে ২০ মে পর্যন্ত ২ ঘণ্টা, ২১ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন। পরে গত ২৯ মে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলে কর্মসূচি ২৫ জুন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।
দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এসব বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত। গত ২৪ এপ্রিল ১১তম গ্রেডে বেতন পাওয়া প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে ও ১৩তম গ্রেডে বেতন পাওয়া শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।