চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণ কড়ৈতলী এলাকায় সেচখালে পানির স্বল্পতার কারণে কৃষকরা চলতি আমন মৌসুমের ধান রোপণকৃত ফসল রক্ষা করতে পারছেন না। পাম্পের মাধ্যমে পানির সরবরাহে বিলম্ব ও খালের অব্যবস্থাপনার কারণে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, ধান রোপণের প্রথম পর্যায়ে একাধিক প্রচেষ্টায় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হলেও দ্বিতীয় পর্যায়ে পাম্প ম্যানেজার পর্যাপ্ত পানি দিতে পারছেন না। যথাসময়ে ধানের চারায় পানি না দিলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হবে।
কৃষক আলমগীর দর্জি, তাফাজ্জল পাটওয়ারী, তসলিম গাজী ও ওমর ফারুক জানিয়েছেন, ‘আমরা যে পরিমাণ পানি পাওয়ার কথা ছিলো, তা পাচ্ছি না। টেনেটুনে পানি দিয়ে রোপণ করেছি, কিন্তু বর্তমানে খেতে পানি নেই। জমি ফেটে গেছে, কিছু চারা জ্বলে গেছে। পানি না পেলে ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
যোগীকান্দি পাম্প ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, ‘খালে পানি না আসলে আমি কীভাবে পানি সরবরাহ করব? খাল ভরাট হয়ে আছে, খাল খনন না করলে পানি আসবে না। যে যার মতো খাল দখল করেছে। দ্রুত খাল খনন করতে হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘পাইকপাড়া দক্ষিণ ও গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের কিছু এলাকায় সেচের পানির সমস্যা হয়েছে। পানি উন্নয়নে বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। মেঘনা নদীতে পানি কম থাকার কারণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। আশা করি নদীতে পানি বাড়লে সমস্যা সমাধান হবে।’ কৃষকেরা দ্রুত খাল খনন এবং পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন