ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৬:১৪ এএম

দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যমান লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তিপদ্ধতি বাতিল করেছে সরকার। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।  তবে এমন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করে বিবৃতি দিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুন্না রাণী বিশ্বাস স্বাক্ষরিত জারি করা এক আদেশে এ কথা জানানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, বর্তমানে সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া বাতিল থাকবে।

এতে আরো বলা হয়, লটারি পদ্ধতি বাতিলের পর অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এর ফলে ইতিপূর্বে জারি করা (২০২৫ সালের ১৩ ও ১৯ নভেম্বর) সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা দুটি নির্দেশক্রমে বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে, লটারিপদ্ধতির পরিবর্তে মেধা যাচাই বা অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত সোমবার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানান, শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ছাত্রফ্রন্টের প্রতিবাদ : স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারিপদ্ধতি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষার নেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দীন গতকাল এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়। এটি শিক্ষাকে ক্রমাগত বাজারমুখী করে তোলার একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক প্রকল্পের অংশ। শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করার নীতি থেকে অবশ্যই সরে আসতে হবে সরকারকে’।

নেতারা আরও বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষা দেয়, যখনই ভর্তি পরীক্ষা ছিল, তখনই কোচিং সেন্টারগুলো রমরমা ব্যবসা করেছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা মানেই প্রস্তুতির চাপ, আর সেই চাপকে পুঁজি করেই কোচিং ব্যবসা গড়ে ওঠে। এটা শিক্ষার বেসরকারীকরণের প্রথম ধাপ। অবিলম্বে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত বাতিল করে শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করার নীতি থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে’।