ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চলতি মৌসুমে চীনাবাদামের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই অর্থকরী ফসলের ভালো ফলন ও বাজারদর থাকায় দিন দিন চাষের পরিধি বাড়ছে।
উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে নুরাবাদ, আহাম্মদপুর, মুজিবনগর, চরকলমী, রসুলপুর ও নজরুলনগর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি চীনাবাদামের চাষ হয়েছে। এসব এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজ চীনাবাদাম গাছের সমারোহ। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা এখন ঘরে তোলার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং বিক্রির প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চীনাবাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল পাঁচ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি। তবে তা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে পাঁচ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতেÑ যা বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ।
উন্নত জাতের চাষাবাদের কারণে ফলনও আশানুরূপ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ২.৫ থেকে ৩ টন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসাবে উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার টন চীনাবাদাম উৎপাদিত হতে পারে। চাষকৃত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-১, বিনা চীনাবাদাম-৪, বারি চীনাবাদাম-৮সহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল ও স্থানীয় জাত।
কৃষি বিভাগ জানায়, তেঁতুলিয়া নদীর উপকূলবর্তী এলাকায় সবচেয়ে বেশি চীনাবাদাম আবাদ হয়। রবি মৌসুমে এই ফসল কৃষকদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় চীনাবাদাম হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক।
নজরুলনগর ইউনিয়নের কৃষক মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘দোআঁশ মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন ভালো হয়েছে। প্রতিবছর চীনাবাদাম বিক্রি করে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আয় করি, যা দিয়ে সারা বছরের সংসার চলে।’ তিনি জানান, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন শহরেও এই বাদাম সরবরাহ করা হয়।
নুরাবাদ ইউনিয়নের কৃষক আবদুল্লাহ বলেন, ‘এ বছর প্রায় আট একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বাদাম চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছি।’
চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা জানান, ‘উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এখানে চীনাবাদাম চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদন খরচ কম ও বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকরা এ ফসলে ঝুঁকছেন।’ তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় দুই হাজার কৃষককে উন্নতমানের বীজ ও সার বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন