× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

জুবায়ের আহমেদ, লন্ডন

প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ০৫:৪৯ এএম

লন্ডনে ইতিহাস গড়লেন দুই বাংলাদেশি লুৎফুর ও ফরহাদ

জুবায়ের আহমেদ, লন্ডন

প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ০৫:৪৯ এএম

লন্ডনে ইতিহাস গড়লেন দুই  বাংলাদেশি লুৎফুর ও ফরহাদ

ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়লেন দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লুৎফুর রহমান ও ফরহাদ হোসেন। পূর্ব লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা টাওয়ার হ্যামলেটসে মেয়র পদে চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন লুৎফুর রহমান। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ১৬ হাজার ২২৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে আবারও জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিক। নির্বাচনে বিজয়ী লুৎফুর রহমান পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৫৪ ভোট। লন্ডনের নিউহাম কাউন্সিলে নির্বাহী মেয়র পদে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরহাদ হোসেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ৫ হাজার ৩০৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। বিজয়ী ফরহাদ হোসেন পান ২৫ হাজার ৫৩৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিউহাম ইনডিপেনডেন্ট পার্টির কামরান মালিক পেয়েছেন ২০ হাজার ২৩৪ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী আরিক চৌধুরী। গ্রিন পার্টির এই প্রার্থী পেয়েছেন ১৮ হাজার ৯৯৯ ভোট। নিউহাম কাউন্সিলে মোট আটজন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

জানা যায়, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লুৎফুর রহমান এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় মেয়র লুৎফুর রহামনের জন্ম ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশের সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানার সিকন্দরপুর গ্রামে। বাবার নাম সুরুজ আলী। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে লুৎফুর রহমান দ্বিতীয়। বিলেতে আসেন মাত্র ৬ বছর বয়সে ১৯৭১ সালে। প্রাথমিক শিক্ষা নেন মেনর প্রাইমারি স্কুল থেকে। পেশায় তিনি আইনজীবী। এই এলাকার সর্বসাধারণের সঙ্গে তার আত্মার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে বর্ণবাদী আন্দোলনসহ সব ধরনের সামাজিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে। স্থানীয় লেবার রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ১৯৮৯ সাল থেকে। ২০০২ সালে স্পিটালফিল্ড ও বাংলাটাউন এলাকা থেকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৩ ও ২০০৫ সালে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের এডুকেশন এবং ইয়ুথ সার্ভিসের লিড মেম্বারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ ও ২০০৭ সালে কালচারাল বিভাগের লিড মেম্বার এবং সর্বশেষ ২০০৮ ও ২০১০ সালে কাউন্সিলের শীর্ষ নেতৃত্বের আসন কাউন্সিল লিডারের পদ অত্যন্ত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে পালন করেন।

নির্বাচিত হয়ে মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, ‘আমাকে পুনর্নির্বাচিত করায় টাওয়ার হ্যামলেটসের জনগণকে ধন্যবাদ। আমরা জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় যুগান্তকারী সহায়তা এবং সাশ্রয়ী ও সামাজিক আবাসন নির্মাণের রূপান্তরমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখব। টাওয়ার হ্যামলেটসে আমরা গর্ব করি যে, এটি যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ এলাকাগুলোর একটি।’ লুৎফুর রহমান বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আমি আশা করি আজ নির্বাচিত নতুন প্রগতিশীল প্রশাসনগুলো আমাদের পথ অনুসরণ করবে, একই ধরনের রূপান্তরমূলক নীতি গ্রহণ করবে এবং আমাদের কমিউনিটির জন্য বাস্তব পরিবর্তন আনতে একসঙ্গে কাজ করবে।’

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরহাদ হোসেন ব্রিটেনের ইতিহাসে প্রথম কোনো মূলধারার রাজনৈতিক দল (লেবার পার্টি) থেকে নির্বাচিত নির্বাহী মেয়র। এই জয় লেবার পার্টির মতো একটি প্রধান দলের হয়ে প্রথম কোনো বাংলাদেশির মেয়র নির্বাচিত হওয়ার নজির। ব্রিটেনের মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত এই তরুণ রাজনীতিবিদ তার এলাকায় ভীষণ জনপ্রিয় ব্যক্তি। ফরহাদ হোসেনের দেশের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর (নুরপুর) গ্রামে। পিতার নাম জয়নাল আবেদীন হরুফ মিয়া।

নির্বাচিত হয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমি পেরেছি, আপনারাও পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘এটি এই বারার জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। নিউহ্যাম আমাকে আজ এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, আর সেই বারার মেয়র নির্বাচিত হওয়া আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান। গণতন্ত্র তখনই সার্থক হয়, যখন সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে সেবা করার সুযোগ পায়।’

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মূলধারার রাজনীতিতে একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নেতার এই উত্থান ব্রিটিশ স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক। আগামী মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফরহাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে একটি শক্তিশালী ও কার্যকরী ক্যাবিনেট গঠন করা, যা বারার তীব্র আবাসন সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মতো জরুরি সমস্যাগুলো মোকাবিলা করবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!