পাবনার ঈশ্বরদীর রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) জাপানি হ্যান্ড গ্লাভস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘টোয়া’ কারখানায় পূর্বঘোষণা ছাড়াই ১১২ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আকস্মিক এই ছাঁটাইয়ের ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
চাকরিচ্যুত শ্রমিকেরা জানান, তারা দীর্ঘ আট-নয় বছর ধরে এই কারখানায় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে ছাঁটাইয়ের গুঞ্জন থাকলেও বৃহস্পতিবার সকালে যথারীতি কাজে যোগ দেওয়ার পর হঠাৎ ফ্লোর ইনচার্জরা তাদের স্থায়ীভাবে ছাঁটাইয়ের কথা জানান।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে শিশির আহমেদ ও তার স্ত্রীও রয়েছেন। একজনের বেতনে সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়ায় স্ত্রীকে একই কারখানায় চাকরি নিয়ে দিয়েছিলেন শিশির। বৃহস্পতিবার সকালেও দুজনে একসঙ্গে কারখানায় যান, কিন্তু দুপুরের আগেই জানতে পারেন তাদের কারও চাকরি নেই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশির বলেন, ‘বিনা নোটিশে দুজনেরই চাকরি চলে গেল। এখন বাসাভাড়া ও সংসার চালাব কীভাবে?’
এদিকে বিনা নোটিশে চাকরি হারানোর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন এবং পুনর্বহালের দাবি তোলেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মীদের ছাঁটাই করা হলেও অদক্ষ ও অনিয়মিত কিছু শ্রমিককে প্রভাব খাটিয়ে চাকরিতে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক দাবি করেন, কারখানার আর্থিক সংকটকে অজুহাত করা হলেও মূলত কিছু কর্মকর্তার দুর্নীতি আড়াল করতেই এই দক্ষ শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়েছে।
বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুতির বিষয়টি স্বীকার করে টোয়া কারখানার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক মুসলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘জাপানি কর্তৃপক্ষ যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, আমরা সেভাবেই কাজ করেছি। কোনো পূর্ব নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে বেপজার সব নিয়ম মেনেই শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। কারও কোনো বকেয়া নেই।’
পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, আর্থিক সংকটের কারণে টোয়া কোম্পানির মোট ৩২০ জন শ্রমিকের মধ্যে ১১২ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের সমস্ত পাওনা তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। প্রথম দিকে শ্রমিকদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা ও বিক্ষোভ দেখা দিলেও পরে পুলিশ, আনসার ও নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতিতে তাদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয়। বর্তমানে কারখানার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন