মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের (ইইএসএস) আওতায় দেশব্যাপী ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রোগ্রাম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) আওতাভুক্ত এই প্রোগ্রাম। বর্তমান সরকারের ৫১ দফার নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা, যুব উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতের জন্য যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, এই প্রোগ্রাম তারই একটি ব্যাবহারিক ও মাঠ পর্যায়ের প্রতিফলন।
দেশব্যাপী মেধাবী শিক্ষক ও উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী খুঁজে বের করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত রোববার এই প্রোগ্রাম উদ্বোধন করা হয়। প্রোগ্রামের এবারের প্রতিপাদ্যÑ ‘মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। তরুণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে একই ছাদের নিচে স্টার্টআপ বিজনেস আইডিয়া, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনের এ আয়োজন দেশব্যাপী সাড়া ফেলেছে। ঢাকার বি এ এফ শাহীন কলেজ মিলনায়তনে ঢাকা জেলা পর্যায়ের আয়োজনের উদ্বোধন করেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় তিনি খুদে উদ্ভাবকদের তার বক্তব্যের মাধ্যমে অনুপ্রেরণা দেন।
এই আয়োজনে দেশের প্রতিটি প্রান্তের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সমন্বয়ে গঠিত দল উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে অংশ নিচ্ছেন। তিনটি ধাপে, যথাÑ উপজেলা পর্যায়ে গত ১২ জুন, জেলা পর্যায়ে ১৪ জুন ও জাতীয় পর্যায়ে আগামী ২৮ জুন এই আয়োজনে দেশসেরা ১০টি দলকে পুরস্কৃত করা হবে। জাতীয় পর্যায়ের এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা জেলার ৫টি উপজেলা ও মহানগরীর ১৬টি শিক্ষা থানার সম্ভাব্য ৩৭৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮১৬টি দল গত ১২ জুন উপজেলা/ শিক্ষা থানা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। যার মধ্য থেকে বিজয়ী ৩৭টি দল (৫টি উপজেলা থেকে ১টি করে মোট ৫টি দল ও ১৬টি শিক্ষা থানা থেকে ২টি করে মোট ৩২টি দল) জেলা পর্যায়ে অংশ নিচ্ছে। জেলা পর্যায়ে ৩৭টি দল থেকে সেরা ৩টি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করে পুরস্কার দেওয়া হবে এবং ১৭টি দলকে জাতীয় পর্যায়ের আয়োজনের জন্য নির্বাচিত করা হবে। জাতীয় পর্যায়ে সেরা ১০টি দলকে পুরস্কৃত করা হবে।
প্রতিটি দলে সদস্যসংখ্যা ৫ জন (৩ জন শিক্ষার্থী ও ২ জন শিক্ষক)। অর্থাৎ জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীর সংখ্যা ১৮৫ জন।
এই প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, মুখস্থনির্ভরতা পরিহার করে গঠনমূলক সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়ন, সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ উন্মুক্ত করা এবং সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা সৃষ্টিতে গুরুত্বারোপ করা। এ ছাড়া লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বা আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী, উৎপাদনমুখী ও ভবিষ্যৎ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।
এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার বিকাশ হবে। প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত দক্ষতার উন্নয়ন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগামীতে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে উঠবে। একইভাবে শিক্ষকরাও আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি চর্চার মাধ্যমে পেশাদারিত্বের উন্নয়ন করতে পারবে, যা তাদের কাজের স্বীকৃতি ও অনুপ্রেরণা দেবে। সার্বিকভাবে এটি বর্তমান সরকারের শিক্ষায় নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক’ বাস্তবায়নের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
প্রোগ্রামটি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের মূল দর্শন এবং সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারগুলোর সঙ্গেও অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সংযুক্ত।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থায় একঘেয়েমি দূর করতে এবং মেধার সঠিক বিকাশের জন্য লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বা আনন্দময় শিক্ষাপদ্ধতি চালু করা হবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই দলগত কাজ ও ব্যক্তিগত দক্ষতার উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়ার কথা সেখানে বলা হয়েছে।
এই শোকেসিং প্রোগ্রামটির মূল লক্ষ্যই হলো শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে এনে নানা উপায়ে আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে তাদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহ দেওয়া। দলগতভাবে সায়েন্স প্রজেক্ট বা স্টার্টআপ আইডিয়া তৈরি ও উপস্থাপনের মাধ্যমে ইশতেহারের এই দর্শনটিই সরাসরি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ ছাড়া ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষাকে শুধু সনদসর্বস্ব না করে কর্মমুখী, উৎপাদনমুখী এবং দক্ষতাভিত্তিক করার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে যুবসমাজ বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারে।
ইশতেহারের যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে তরুণদের নতুন নতুন ব্যাবসায়িক আইডিয়া, স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবনবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য বিশেষ নীতিগত ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মেধাভিত্তিক সমাজ গঠন এবং মেধার সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন গতি আনার অঙ্গীকার করা হয়েছে সরকারের ইশতেহারে। এসইডিপির এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় দেশব্যাপী ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ ইশতেহারের লক্ষ্য পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টদের বিশ^াস।

