ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

ছয় দিন পর উদ্ধার মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ৪

পরিবারকে রেস্টুরেন্টে রেখে নিখোঁজ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০৫:৪১ এএম

পরিবার নিয়ে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলেন আজিবুর রহমান। খাবারের মাঝপথে তার মোবাইল ফোনে আসে একটি কল। পরিবারের সদস্যদের টেবিলে রেখে তিনি কথা বলতে বাইরে যান। এরপর আর ফিরে আসেননি। সেই রাত থেকেই শুরু হয় এক পরিবারের দুঃস্বপ্ন।

স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর সেদিনই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই আসতে থাকে অচেনা নম্বরের ফোন। অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, আজিবুর রহমান তাদের হেফাজতে আছেন। তাকে জীবিত ফেরত চাইলে দিতে হবে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ। গতকাল সোমবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ এসব তথ্য জানান।

উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, অপহরণের ঘটনার পর থেকেই উত্তরা পশ্চিম থানা, গোয়েন্দা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তিনি বলেন, অপহরণকারীরা প্রথমে ১ কোটি টাকা দাবি করলেও পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে ২৫ লাখ টাকায় রাজি হয়। তবে এরই মধ্যে পুলিশের টানা অভিযান তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে। পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে অপহরণকারীরা পরিবারের সদস্যদের কাছে ভিডিও কল করে আজিবুর রহমানকে নির্যাতনের দৃশ্য দেখায়। উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা এবং দ্রুত মুক্তিপণের টাকা আদায় করা।

ছয় দিনের অভিযানের পর অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। শনিবার রাতে দক্ষিণখানের হলান এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে অপহৃত আজিবুর রহমানকে উদ্ধার এবং মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা জব্দ করে পুলিশ।

মির্জা তারেক বলেন, অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিল। তবে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে সংঘবদ্ধ অপরাধ, অপহরণ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীরা যতই কৌশল অবলম্বন করুক না কেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নজর এড়াতে পারবে না।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছে। এ ছাড়া চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উত্তরা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আল আমিন সরকার, সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুল ইসলাম রনি ও উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর।