খাগড়াছড়িতে গোলাগুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত) দুই সদস্য নিহত হয়েছে। গতকাল বুধবার দীঘিনালা ও রামগর ইউনিয়নের পৃথক দুই জায়গায় এ ঘটনা ঘটে। দুই নেতার একজন সেনাবাহিনীর অভিযানে এবং আরেকজন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির গুলিতে নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযানে দুই সন্ত্রাসী অস্ত্র ও গুলিসহ আত্মসমর্পণ করে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গত মঙ্গলবার খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় আনুমানিক বেলা ২টা এবং গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় রামগড় উপজেলায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় পানছড়ি উপজেলার বরকলক এলাকায় সশস্ত্র সংগঠনের দুইজন সদস্য ২টি একে-৪৭ রাইফেল, ২টি ম্যাগাজিন এবং ১৩২ রাউন্ড গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করে।
অন্যদিকে, রামগড় উপজেলার হাজাছড়া এলাকায় পরিচালিত অপর একটি অভিযানে গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে সশস্ত্র সংগঠনের একজন সদস্য নিহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১টি একে-৪৭ রাইফেল, ১টি ম্যাগাজিন, ১টি পাইপগান, ২৭ রাউন্ড গোলাবারুদসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা এক বিবৃতিতে দাবি করেন, প্রেমতলা এলাকায় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ইউপিডিএফ-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ববিন ত্রিপুরা নিহত হন। এ ঘটনায় মংসানু মারমা নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
অন্যদিকে গতকাল দুপুরে দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ার মুড়োপাড়া এলাকায় গুলিতে সুজন চাকমা (৪৮) নামের এক ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জেএসএসকে দায়ী করেছে ইউপিডিএফ। বিকেল ৫টায় এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ইউপিডিএফ। সংগঠনের মুখপাত্র অংগ্য মারমার সই করা এ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, জেএসএসের অস্ত্রধারী কয়েকজন তাদের কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে। এ সময় সাংগঠনিক কাজে বাবুছড়ার মুড়োপাড়ায় অবস্থানরত তাদের সদস্য সুজন চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার বলেন, সুজন চাকমা বাবুছড়া মুরোপাড়ায় একটি দোকানে বসে ছিল। এ সময় পাঁচজন মুখোশধারী কিছু লোক মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে চলে যায়। লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

