ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

এসএমই খাতকে চাঙ্গা করা সরকারের অগ্রাধিকার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০১:৫৯ এএম

শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিতে গতি আনতে এসএমই খাতকে চাঙ্গা করা সরকারের অগ্রাধিকার। এ জন্য ব্যবসার শুরু থেকে পণ্য আমদানি বা রপ্তানি পর্যন্ত সময়কে ৩৫৫ দিন থেকে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিরতিহীন জ্বালানি নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

গতকাল বুধবার অর্থনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সহযোগিতায় এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : এসএমই খাতের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপমহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ আলম। মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

মূল প্রবন্ধে এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের জন্য এসএমই খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত ১১৩টি প্রস্তাবের মধ্যে ৩৬টি প্রস্তাব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে আয়করসংক্রান্ত ১২টি, ভ্যাট-সংক্রান্ত ৫টি এবং শুল্কসংক্রান্ত ১৯টি প্রস্তাব বাজেটে গৃহীত হয়েছে। প্রথমবারের মতো বাজেটের বিভিন্ন প্রস্তাবনায় সিএমএসএমই খাতের জন্য প্রায় ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’

তবে এসএমই ফাউন্ডেশন মনে করে, এসএমই খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার প্রণীত জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২, জাতীয় এসএমই নীতিমালা ২০২৬ (খসড়া), ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি ২০২৩ এবং রপ্তানি নীতিমালা ২০২৪-২০২৭-এ এসএমই খাতের জন্য বিভিন্ন কর ছাড় ও প্রণোদনার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে বাস্তবে এসব নীতিগত সুবিধা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তাই নীতিসমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর ও শুল্ক সুবিধা কার্যকরভাবে প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি।

উল্লিখিত প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কসংক্রান্ত এমএসএমইদের জন্য বিদ্যমান বিচ্ছিন্ন সুবিধাগুলোকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে ‘ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক করনীতি’ একটি পৃথক আইন বা এসআরও প্রণয়ন করা দরকার। এমএসএমই খাতের বিকাশের লক্ষ্যে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় এসএমই ফাউেন্ডশনসহ ৩টি সরকারি সংস্থার মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, তা আরও বৃদ্ধি করা এবং এসএমই ফাউন্ডেশেনর জন্য কমপক্ষে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা যেতে পারে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, সরকারের ‘১টি-গ্রাম-১টি-পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখান থেকে এসএমই ফাউন্ডেশেনর জন্য অন্তত ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা যেতে পারে। এসএমই ফাউন্ডেশনের গবেষণা অনুযায়ী দেশের ১৭৭টি শিল্প ক্লাস্টারে প্রায় ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাই ক্লাস্টারভিত্তিক এসএমই উন্নয়নের বিকল্প নাই। এসএমই ক্লাস্টারের হলিস্টিক উন্নয়নের জন্য এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে বছরে অন্তত ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা যেতে পারে।