ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই, ২০২৬

দেশে এলো কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর লাশ

সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৩:৩৯ এএম

পরিবারে এক চিলতে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে সুদূর কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কিন্তু এক নিমেষেই সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। কাতারে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সেই ৫ তরুণের নিথর দেহ গতকাল মঙ্গলবার সকালে দেশে এসে পৌঁছায়। তাদের হারিয়ে এখন পরিবার ও পুরো এলাকায় চলছে কান্নার রোল।

সকাল ৭টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় ৫ রেমিট্যান্স যোদ্ধার কফিনবন্দি লাশ। এ সময় বিমানবন্দরে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সন্তান, ভাই কিংবা স্বামীকে শেষবারের মতো দেখতে আসা হতভাগা পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বিমানবন্দরের বাতাস।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় ঈদগাহ বা নিজ নিজ গ্রামের মাঠে নিহত ৫ তরুণের জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। যাদের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল পাঁচটি পরিবার, আজ তাদেরই কাঁধে চড়ে ফিরতে হলো কফিনবন্দি হয়ে। এই তরুণদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং মরদেহগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করতে সকালে বিমানবন্দরে ছুটে যান সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান চৌধুরী এবং সিলেট নগর উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তারা নিহতদের কফিন গ্রহণ করেন এবং গভীর শোক প্রকাশ করে কান্নায় ভেঙে পড়া স্বজনদের সান্ত¡না দেন। এ সময় এমপি মুফতি আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, এই তরুণরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা প্রকৃত বীর, তাদের এভাবে চলে যাওয়া এক অপূরণীয় ক্ষতি।

নিহতদের লাশ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছামাত্রই কানাইঘাটের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শোকের মাতম শুরু হয়। প্রতিবেশী ও দূর-দূরান্তের মানুষ শেষবারের মতো এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দেখতে বাড়িতে ভিড় জমান। উপার্জনক্ষম প্রিয় মানুষদের হারিয়ে দিশাহারা পরিবারগুলোকে সান্ত¡না দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন প্রতিবেশীরাও। পুরো এলাকায় এখন গভীর স্তব্ধতা ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে।