ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই, ২০২৬

বললেন মন্ত্রী

স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় সুস্বাস্থ্যে সমৃদ্ধ জাতি গঠনের বিনিয়োগ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৩:৫৫ এএম

স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়কে শুধু ব্যয় হিসেবে না দেখে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধিশালী জাতি গঠনের বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করাই সমীচীন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য অনধিক ৪৯ হাজার ৩৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা মঞ্জুরের দাবি উত্থাপন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ দাবির ওপর সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের পর জবাব দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দাবি নম্বর ২৫-এর ওপর ৩৭ জন সংসদ সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেন। ছাঁটাই প্রস্তাবে প্রস্তাবিত বরাদ্দ কমিয়ে ১ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়।

এ সময় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, স্বাস্থ্য খাতের জন্য ৪৯ হাজার ৩৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা মঞ্জুরের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য খাতে, বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের যে ধরনের সেবা পাওয়ার কথা, তার ধারেকাছেও তারা সেবা পান না। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং যেসব ওষুধ রোগীদের বিনা মূল্যে পাওয়ার কথা, সেগুলোও অনেক সময় তারা পান না। তিনি আরও বলেন, প্রায় প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে, বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর এক ধরনের দৌরাত্ম্য রয়েছে। রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের যোগসাজশ করা হয়। ফলে রোগীরা যে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কথা, তা থেকে তারা বঞ্চিত হন।

এর জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি জনগণের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। একটি সুস্থ জনগোষ্ঠী ছাড়া উৎপাদনশীল অর্থনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার কিংবা টেকসই জাতীয় উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সে কারণে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়কে শুধু ব্যয় হিসেবে না দেখে, দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী জাতি গঠনের ব্যয় হিসেবে গ্রহণ করাই আমাদের সবার জন্য সমীচীন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সংসদ সদস্য যে সমস্যাগুলোর কথা বলেছেন, সেগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি এবং সেগুলোর উন্নয়নেই কাজ করতে চাই। আর উন্নয়ন করতে হলে এক টাকা দিয়ে কী হবে? মাননীয় স্পিকার, এক টাকা তো ফকিরের ভিক্ষা। আমি আশা করেছিলাম, তিনি আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানাবেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে আমরা বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। প্রায় এক লাখ জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। কিডনি ডায়ালিসিসসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন করা হবে। এসব বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ছাঁটাই প্রস্তাবটি গ্রহণ করা সম্ভব নয়।