নেশাসক্ত স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রী থানায় গিয়েছিলেন অভিযোগ করতে। সেখানে অভিযোগের একপর্যায়ে তিনি জানান, তার স্বামী প্রায় পাঁচ মাস আগে এক ইজিবাইকচালককে হত্যা করে বাড়ির সামনে পুঁতে রেখেছেন। এ ঘটনার পরপরই ওই নারীর স্বামীকে আটক এবং ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে খুলনার হরিণটানা এলাকায়। হতভাগ্য ইজিবাইকচালকের নাম মারুফ। অন্যদিকে হত্যাকারীর নাম মুরাদ মোল্লা এবং অভিযোগকারিণী তার স্ত্রী ফাল্গুনী খাতুন। পুলিশ এ ঘটনায় ফাল্গুনীকেও আটক করেছে। মারুফের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে হরিণটানা থানাধীন রেলব্রিজ সংলগ্ন ব্লু ওয়েল আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির সামনে অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে এদিন সকালে হরিণটানা থানায় যান ফাল্গুনী। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, স্বামী মুরাদ মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে তাকে শারীরিক নির্যাতন করছেন। অভিযোগের একপর্যায়ে তিনি পুলিশকে জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে মারুফ নামে এক ইজিবাইকচালককে হত্যা করে বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখেন মুরাদ। চালককে হত্যার পর তিনি ইজিবাইকটির বিভিন্ন অংশ খুলে বিক্রি করে দেন।
ফাল্গুনীর তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মুরাদ মোল্লাকে আটক করে। পরে তার দেখানো স্থান থেকে বাড়ির সামনে মাটি খুঁড়ে গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হরিণটানা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হোসেন মিলন জানান, নিহত মারুফের সঙ্গে অভিযুক্ত মুরাদের পূর্বপরিচয় ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গত রমজানের কোনো এক রাতে ফোন করে মারুফকে বাড়িতে ডেকে নেন মুরাদ। পরে ইজিবাইকে বসা অবস্থায় পেছন থেকে দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে বাড়ির উঠানে গর্ত করে পুঁতে রাখেন। হত্যার পর ইজিবাইকটি খুলে বিভিন্ন অংশ বিক্রি করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় গুডুদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. তুহিন বলেন, মুরাদ মোল্লা মাদকাসক্ত হিসেবে এলাকায় পরিচিত। মাদকের টাকার জন্য তিনি পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন করতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকা-ের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

