ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

নারী মরদেহের পোস্টমর্টেমে নারী ডোম নিয়োগ চেয়ে রিট

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৬:০৮ এএম

নারী মরদেহের ময়নাতদন্তে দেশের ময়নাতদন্ত সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালগুলোতে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। এর আগে, দেশের ময়নাতদন্ত করা হাসপাতালগুলোতে একজন করে নারী ডোম নিয়োগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়। আইনজীবী মনির উদ্দিন এই আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ রাষ্ট্র। ইসলাম ধর্মসহ সব ধর্মের নারীর মরদেহ সতর বা পর্দার অন্তরালে রাখার বিধান রয়েছে। ময়নাতদন্ত একটা আইনি প্রক্রিয়া হলেও নারীর ক্ষেত্রে পর-পুরুষের স্পর্শ বা উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। ইতিপূর্বে পুরুষ কর্তৃক বাংলাদেশে মৃত নারীর সঙ্গে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়। সেখানে নারী ডোম থাকলে গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা পাবে। সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে যদি কোনো নারী মারা যায়, তাহলে তার পরিবার এমনিতেই মানসিকভাবে বিপর্যন্ত থাকে। এমন পরিস্থিতিতে যখন জানতে পারে, কোনো পুরুষ সদস্য তাদের পরিবারের নারী সদস্যের পোস্টমর্টেম করবে, তাহলে তা হয় আরও হৃদয়বিদারক। যদি কোনো নারী ডোম তাদের কাজটি করত, তাহলে ওই দুঃসময়ে তারা একটু সান্ত¡না পেত। বর্তমান যুগে নারীরা সব ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে কাজ করছে। ময়নাতদন্তের মতো জায়গায় যদি নারী ডোম থাকে, তাহলে ধর্মীয় বিষয়টি রক্ষা পাবে এবং বৈষম্য দূর হবে।

আধুনিক সমাজের নারী রোগীদের বা মরদেহের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি যুগোপযোগী চাহিদা। মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী মৃত্যুর পরও একজন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিশ্চিত করা জরুরি। মর্গে অনেক সময় পুরুষ ডোমের দ্বারা মৃত নারীর শরীরে বিকৃত যৌনাচারের ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ২২ অক্টোবর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা এক তরুণীর মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার করার অভিযোগ ওঠে মর্গের ডোম আবু সাঈদের (২৯) বিরুদ্ধে। মর্গের চিকিৎসক এ বিষয়ে নিশ্চিত করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়; যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে লাশের সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগে মুন্না ভগত (২০) নামে এক ডোমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর সে নিজের দোষ স্বীকার করে।

অন্যদিকে এক-দুজন নয়, ১০০ জন নারীর মরদেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা নিজের মুখে স্বীকার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহিওর এক মর্গরক্ষী কেনেট ডগলাস (৬০)। সে ১৯৭৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত রাতের শিফটে কাজ করার সময় মর্গে আসা ১০০টি নারী লাশের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছে। আবেদনে এসব বিষয় বিবেচনা নিয়ে বাংলাদেশের যেসব হাসপাতালে পোস্টমর্টেম হয়, সবগুলো হাসপাতালে একজন নারী ডোম নিয়োগ এবং মরদেহের সম্ভ্রম রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়। আবেদনে সাড়া না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়েছে।