ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশে আশ্রিত আরও ২৫৬ জন রোহিঙ্গা উন্নত দেশে পুনর্বাসিত হচ্ছেন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০১:৪৬ এএম

ছয়টি উন্নত দেশে পুনর্বাসনের জন্য আরও প্রায় ২৫৬ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিগগিরই বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং কানাডায় পুনর্বাসন করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাসপোর্ট অ্যান্ড ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে প্রত্যাবর্তন ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সমন্বয় করছে, জাতিসংঘের সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন’ (আইওএম) এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সহায়তা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি’ (আইআরসি)।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ইমিগ্রেশন উইং) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ  জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের অংশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং বিষয়টি এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। ‘আমরা  আশা করছি, তারা শিগগিরই উন্নত দেশগুলোর উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করবেন।’

সূত্র জানিয়েছে, পুনর্বাসন প্রক্রিয়া হলো অন্য দেশের নাগরিক যারা যেকোনো দেশে আশ্রিত শরণার্থী হিসেবে বর্তমান নিবন্ধিত দেশ থেকে তৃতীয় কোনো দেশে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং সুশৃঙ্খলভাবে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া। এই স্থানান্তর কার্যক্রমটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন’ (আইওএম) এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সহায়তা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি’র (আইআরসি) সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সমন্বিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৬,৪০৯ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে উন্নত দেশগুলোতে পুনর্বাসন করা হয়েছে, যার মধ্যে আইওএম’র মাধ্যমে ৫,৭১২ জন এবং আইআরসির মাধ্যমে ৬৯৭ জন রয়েছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে আইওএম’র মাধ্যমে কানাডা, যুক্তরাজ্য ও নিউজিল্যান্ডে ১৯১ জন শরণার্থীকে পাঠানো হয়েছে এবং আইআরসির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়েছে ১৪৫ জনকে।

গত ১৭ জুন জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই পুনর্বাসন কোনো স্থায়ী সমাধান নয় এবং মূল লক্ষ্য হলোÑ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ছয়টি ধাপে মিয়ানমার সরকারের কাছে ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করেছে। মিয়ানমার তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৩ জনের তথ্য যাচাই করেছে এবং ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬ জনকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত করেছে; তবে তাদের কাউকেই এখনো প্রত্যাবাসন করা হয়নি।