ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

বাড্ডায় স্ত্রীকে গলা  কেটে হত্যা, স্বামীর  মৃত্যুদণ্ড 

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০১:৪৯ এএম

দীর্ঘ ২৪ বছর পর ঢাকার নবাবগঞ্জ থানাধীন এলাকায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় হওয়া মামলায় ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪। গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, মধ্য বাড্ডায় প্রায় ৯ বছর আগে স্ত্রী শাকির খাতুন সোমাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদ- দিয়েছেন আদালত।

যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত আসামিরা হলেনÑ সুজন, জুলহাস ও মাহাম্মদ। যাবজ্জীবন কারাদ-ের পাশাপাশি তাদের এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাভোগ। রায় ঘোষণার সময় আসামি সুজন ও মাহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন। এরপর তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জুলহাস পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তাারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের ২২ মার্চ রাত ৮টার দিকে ভিকটিমের ৮ বছর বয়সি ফুফাতো বোন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে চাইলে ভিকটিম তাকে বসতবাড়ির পেছনে পাটকাঠির বেড়ার কাঁচা টয়লেটে নিয়ে যান। ফুফাতো বোনকে টয়লেটে বসিয়ে ভিকটিম তার বাড়ির উত্তর পশ্চিম কোনে পৌঁছা মাত্র আসামি সুজন পেছন দিক থেকে তাকে জড়িয়ে মুখ চেপে ধরে বাড়ির পেছনে উত্তর দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আসামি জুলহাস ও মাহাম্মদ আগে থেকেই অবস্থান করছিল। আসামিরা ভিকটিমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সোনাপুর সার্কিনস্থ গরবাকান্দার বর্মিজ উদ্দিনের বোরো ধানখেতে নিয়ে গিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।  পরে এই ঘটনা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে চলে যায়। ওই ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে একই বছরের ১৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ। এরপর আসামিদের চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এই মামলার বিচারকালে ৭ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন।

স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদ- : রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় প্রায় ৯ বছর আগে স্ত্রী শাকির খাতুন সোমাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার দায়ে স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদ- দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদ- প্রদান করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, ‘আসামি আগামী সাত দিনের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবে।’ মামলার বিচার চলাকালে মনির হোসেন জামিনে ছিল। গত ১৪ জুলাই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হলে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রায় ঘোষণার দিন তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা জারি করে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৩ সালে মনির হোসেন ও শাকির খাতুন সোমার বিয়ে হয়। 

তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরে মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। পরবর্তীতে অর্থের দাবিতে এমন অত্যাচার-নির্যাতন চলতেই থাকে। একপর্যায়ে সোমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে আর নির্যাতন করবেন নাÑ এমন আশ্বাস দিয়ে তাকে আবার সংসারে ফিরিয়ে আনেন মনির। তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। ঘটনার বছর ২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর দুপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিত-া হয়। একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমার গলায় আঘাত করেন। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার দিনই নিহতের মা আক্তার বানু বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ১৭ মে মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।