রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এফডিসির পুরাতন গেটসংলগ্ন এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সেলিম হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। এ সময় নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় র্যাব-২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাঈদ মাহমুদ এ তথ্য জানান।
গত রোববার বিকেল ৩টার দিকে এফডিসির পুরাতন গেটের পাশে ভাঙারি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের বিরোধে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সেলিমকে ধারালো চাকু দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে একদল দুর্বৃত্ত। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম ২০ জুলাই তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাঈদ মাহমুদ বলেন, মামলার পর গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মকবুল ওরফে মুকুল সোহাগ (২৭) এবং মিজানুর রহমান মিজানকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় মিজানের কাছ থেকে নিহত সেলিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ভাঙারি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন ও অন্যান্য বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। এজাহারভুক্ত আরেক আসামি রতনের নির্দেশে তারা সেলিমের ওপর হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছে র্যাব।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদক এবং ভেজাল ওষুধ-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া ভেজাল ওষুধ মামলায় তার বিরুদ্ধে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান আসামি মকবুল ওরফে মুকুলের বিরুদ্ধে মাদক, দস্যুতার চেষ্টা এবং বিভিন্ন অপরাধে সহায়তার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

