জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে হত্যা মামলায় বিতর্কিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান। আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২৪ আগস্ট রাতে তৌহিদ আফ্রিদিকে সিআইডির একটি দল বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফরাজানা হক।
এদিকে তৌহিদ আফ্রিি কে গ্রেপ্তারের পর তার হাতে নির্যাতনের শিকার অনেকে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তাদের ভাষ্য, নিজের ‘গুডবয়’ চেহারার আড়ালে মূলত ‘ব্যাডবয়’ আফ্রিদি। তিনি নারী কেলেঙ্কারি, মাদকসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন। আর সেসব অপরাধ বীরদর্পে চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি আশ্রয়-উৎসাহ পেতেন ‘ভাতের হোটেল’ খ্যাত ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান (ডিবি) হারুন-অর-রশিদের। তাকে ‘চাচা’ও ডাকতেন তৌহিদ আফ্রিদি। আর ‘কমিশন’ পাওয়ার কারণে হারুনের যাবতীয় কর্মকা-ের পেছনে ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রমতে, কামালের যোগসাজশে তৌহিদ আফ্রিদি ও ডিবির হারুন অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি চক্র গড়ে তুলেছিলেন। তাদের টার্গেট ছিলেন শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীরা। কোনো অপরাধ সংঘটিত করে টার্গেটকৃত শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীদের নাম জড়িয়ে দিয়ে তা মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিত এই চক্র। এরপর সেই ফাঁদে আটকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিত তারা।