শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৫, ১১:৪২ এএম

ভোট হোক উৎসবমুখর

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৫, ১১:৪২ এএম

জাতীয় সংসদ নির্বাচন

জাতীয় সংসদ নির্বাচন

জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন যে ২৪ দফার রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, তা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। এই রোডম্যাপে নির্বাচনের প্রতিটি ধাপ নিয়ে স্বচ্ছ ও বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা একটি সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশা জাগায়।

ভোট হবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে, রমজানের আগেই, এই নির্ধারণ জনমানস ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির জন্য সময়সীমা স্পষ্ট করেছে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর করতে হলে কেবল সময়সূচি প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সবপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

ইসির রোডম্যাপে উল্লেখিত সংলাপ আয়োজন, পর্যবেক্ষক নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, আইন সংশোধন প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার দিকগুলো বেশ আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত ইতিবাচক। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে এই সংলাপ হবে বাস্তব অর্থে ফলপ্রসূ।

ভোটকেন্দ্র ও নিরাপত্তাব্যবস্থার দিকেও ইসি যে গঠনমূলক পরিকল্পনা নিয়েছে, তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। নির্বাচন যেন কেবল কেন্দ্রভিত্তিক কর্মকা-ে সীমাবদ্ধ না থেকে জনগণের উৎসবে রূপ নেয়, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য।

তবে নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতা, বিভ্রান্তিমূলক প্রচার এবং রাজনৈতিক হুমকি-ধমকি বন্ধে ইসির দৃঢ় অবস্থান প্রত্যাশিত। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। নির্বাচন যেন আস্থার প্রতীক হয়, সেই চেষ্টাই হওয়া উচিত সবপক্ষের।

একটি উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, এটি গণতন্ত্রের প্রাণ। রাজনৈতিক দলগুলোকে মনে রাখতে হবে, নির্বাচন কোনো দ্বন্দ্ব নয়, এটি মতের ভিন্নতার মধ্য দিয়েই অভিন্ন লক্ষ্য। যা জাতির অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যম।

আমাদের মনে রাখতে হবে,  গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। জনগণের এই অধিকারই একটি রাষ্ট্রকে প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক করে তোলে। তাই ভোট যেন শুধু প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে ওঠে, বরং হয়ে ওঠে আনন্দ-উৎসবের মতো অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক চর্চা। সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

বিগত সময়গুলোতে আমরা দেখেছি, নির্বাচন এলেই নানা ধরনের শঙ্কা, সহিংসতা, ভীতি বা রাজনৈতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। অথচ ভোটারদের অংশগ্রহণ নির্ভয়ে ও নির্বিঘেœ নিশ্চিত করা গেলে ভোটকেন্দ্রগুলো হয়ে উঠতে পারে উৎসবের মঞ্চ। নারী, প্রবীণ, তরুণসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যদি নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন, তবে সেটিই হবে প্রকৃত গণতন্ত্রের বিজয়।

এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন কখনো সহিংসতায় রূপ না নেয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা জরুরি। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে কঠোরভাবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে যাতে ভোটকেন্দ্র নিরাপদ থাকে।

চলতি মাসের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা তার এক ভাষণে বলেছিলেন,  ‘নির্বাচনের দিনকে আমরা ঈদের উৎসবের মতো করতে চাই। এবারের ভোটের আনন্দ থাকবে সবার মধ্যে। আপনারা সবাই বাচ্চাকাচ্চাদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন।’  আমরা আশা করব এবারের নির্বাচনে এই বক্তব্যের প্রতিফলন ঘটবে। ভোটকে কেন্দ্র করে গ্রাম থেকে শহর, সবখানে যদি এক ধরনের আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তবে সেটিই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অগ্রযাত্রার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। জনগণ যখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করবেন, তখনই বোঝা যাবে, নির্বাচন আর ভয়ের নয়, বরং গণমানুষের উৎসব।

ভোট শুধু প্রতিনিধি বাছাই নয়, এটি জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও দায়িত্ববোধের প্রতীক। তাই আগামী নির্বাচনগুলো যেন সত্যিই জনগণের কাছে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে, সে দায়িত্ব সবার।

তাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচন হোক সবার অংশগ্রহণে, বিশ্বাস ও বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তিতে। হিংসা নয়, হোক উৎসব; সংশয় নয়, হোক স্বচ্ছতা, এই হোক আমাদের জাতীয় নির্বাচনের মূলমন্ত্র।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!