দরিদ্র পরিবার থেকে এসে পঞ্চাশ দশকে দর্শকের মনে দাগ কাটানো সাড়া জাগানো অভিনেত্রী মধুবালা। বলিউডে খুব বেশি সময় থাকতে না পারলেও তার অল্প সময়ে রাজত্ব করে গেছেন একাধারে। কিন্তু মৃত্যুর কাছে তাকে হেরে যেতে হয় খুব কম বয়সে। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে বিদায় নেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।
তার আসল নাম মমতাজ জাহান দেহলভী। তবে তিনি মধুবালা নামে পরিচিত। ১৯৩৩ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কিন্তু রোগের কাছে হেরে ১৯৬৯ সালে আজকের দিনে মারা যান এই অভিনেত্রী। ১৪ বছর বয়সে অভিনয় শুরু করেন মধুবালা। তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের সর্বাধিক সুন্দর-আকর্ষণীয় অভিনেত্রী হিসেবে গণ্য। তার ১২ বছরের অভিনয় জীবনে প্রায় ৭০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সিনেমা মুঘল-ই-আজম। সেই সময়ে সিনেমার থেকে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ‘জাব পেয়ার কিয়া তো ডারনা কেয়া’ গানটি। সেখানে তার সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হননি এমন মানুষ ছিল বলে কেউ ভাবতে পারেন না।
তবে অভিনেত্রীর শেষের দিনগুলো যেন বড্ড বেশি কষ্টের। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে অত্যন্ত বেদনাদায়ক মৃত্যু দাগ কেটেছিল সকলের মনে। মৃত্যুর শেষ পর্যায়ে এসে একটাই আর্তি ছিল অভিনেত্রীর, ‘আমি বাঁচতে চাই’। সেই বিষাদময় কাহিনি ট্র্যাজিক কাহিনিকেও হার মানায়।
মধুবালার হৃৎপিন্ডে জন্মগত ছিদ্র ছিল। ১৯৫০ সালে তার শারীরিক এ সমস্যা ধরা পড়ে যার অধুনিক নাম ভেন্ট্রিকুলার সেফটাল ডিফেক্ট (ভিএসডি) এবং তখন ভারতে এর চিকিৎসা ছিল না। মধুবালার ক্যারিয়ারের স্বার্থে পরিবারের পক্ষ থেকেই অসুখটা তখন গোপন করা হয়। কাজের চাপ আর বদ্ধ স্টুডিওয়ে দিনের পর দিন কাটাতে কাটাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুটিং সেটে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়তেন। ১৯৬০ সালে কিশোর কুমারকে বিয়ের পর লন্ডন যান মধুবালা। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, বড়জোর এক বছর বাঁচবেন তিনি। কিন্তু পরে আরও নয় বছর অসুখের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মধুবালা মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে ১৯৪৭ সালে ‘নীল কমল’ সিনেমাতে নায়িকা হিসেবে হাজির হন তখনকার সুপারস্টার রাজ কাপুরের বিপরীতে। এরপর ১৯৪৯ সালের ‘মহল’ সিনেমার মাধ্যমে বলা যায় রাতারাতিই তিনি মহাতারকা বনে যান। তখন তিনি মধুবালা নামে সিনেমা করা শুরু করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ অবলম্বনে নির্মিত ‘মহল’ সিনেমাটির বিপুল সাফল্য তার ক্যারিয়ারে অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠে। এরপর মধুবালার জনপ্রিয় হয়ে উঠেন ‘দুলারি’ (১৯৪৯), ‘বেকসুর’ (১৯৫০), ‘তারানা’ (১৯৫১), ‘বাদল’ (১৯৫১), ‘মুঘল-ই-আজম’ (১৯৬০) সহ আরও অনেক সফল সিনেমা দিয়ে।

