× UCB Sticker Card
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৫:২২ এএম

পিকের জন্য ১০ হাজার পান খেয়েছিলেন আমির খান

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৫:২২ এএম

পিকের জন্য ১০ হাজার পান খেয়েছিলেন আমির খান

একের পর এক সব ইউনিক ও ফ্রেশ কন্টেন্টের সিনেমা উপহার দেওয়ায় সারাবিশ্বে আমির খানের উল্লেখযোগ্য নিউট্রাল অডিয়েন্স তৈরি হয়েছে। শাহরুখ কিংবা সালমান খানের মতো বিশাল ক্রেজ ও স্টারডম না থাকলেও সাধারণ দর্শকদের কাছে আমির খান সবসময় এক ভরসার নাম। তিনি যখন সিনেমা নিয়ে আসেন, তখন সকলেই নতুন কিছুর দেখার আশায় বুক বাঁধে। ২০০৯ সালে ‘থ্রি ইডিয়টস’ দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টির পর ‘পিকে’ সিনেমার মাধ্যমে আবারও জুটি বেঁধেছিলেন আমির খান ও পরিচালক রাজকুমার হিরানি।

আবারও ঘটে যায় আমির-হিরানি ম্যাজিক। ফলাফল, বক্স অফিস এবং সমালোচক-দুই মহলেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। এক এলিয়েনের আশ্রয়ে ধর্মকে ব্যবহার করে স্বার্থোদ্ধারে ব্যস্ত ভ-দের মুখোশ খুলে দেওয়ার যে গল্প হিরানি সিনেমাতে দেখিয়েছেন, তা দর্শক গ্রহণ করেছিলেন সাদরে। কমেডি, ইমোশন, ড্রামা ও রোমান্সের অনুপম মিশ্রণে গড়া বলিউডের অন্যতম কাল্ট ক্লাসিক পিকে সিনেমার অজানা কিছু দিক নিয়েই আজকের এই আয়োজন

ভিনগ্রহ থেকে পৃথিবীতে নামার পর পিকে-কে ভারতের রাজস্থানের অনেক স্থানীয় পোশাক পরিধান করতে দেখা গেছে। মূলত গল্পের খাতিরেই আমির খানকে তা পরতে হয়েছিল। মজার ব্যাপার হলো, সেসময় আমির খান যে পোশাকগুলো পরিধান করেছিলেন, তা আনা হয়েছিল লোকজনের থেকে ধার করে। শুটিং শেষে সবাইকে আবার যার যার পোশাক ফেরত দেওয়া হয়েছিল।

বলিউডে আমির খান মিস্টার পারফেকশনিস্ট নামে সুপরিচিত। সিনেমার জন্য নিজেকে সম্পূর্ণ ভাঙা-গড়ার জন্য দারুণ খ্যাতি আছে তার। ‘পিকে’ সিনেমাও এর ব্যতিক্রম নয়। পুরো ফিল্মে আমির খান মোট ৯টি ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। পুরো সিনেমায় খেয়েছেন প্রায় দশ হাজারের মতো পান।

২০১১ সালে সিনেমার স্ক্রিপ্ট লেখার শুরুতে এর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘তালি’। পরে তা পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘এক থা তালি’। কিন্তু ২০১২ সালে ‘এক থা টাইগার’ নামে সালমান খানের এক সিনেমা মুক্তি পায়। টাইটেল অনেকটা মিলে যাওয়ায় সেটা বাদ দেন পরিচালক। সবশেষে বেছে নেওয়া হয় ‘পিকে’ নামটি।

বিশ্ববরেণ্য ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার এই সিনেমা দেখেছিলেন থিয়েটারে মুক্তির পূর্বেই, স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ে। আমিরের অভিনয় দেখে যারপরনাই মুগ্ধ হন তিনি। এরপর তিনি সবাইকে এই সিনেমা দেখার পরামর্শ দেন।

‘পিকে’ সিনেমায় থ্রি ইডিয়টসের একটা সিগনেচার রেখেছেন পরিচালক। সিনেমার এক দৃশ্যে একজন শিখ ধর্মের লোক পিকের কাছে অর্থ চেয়েছিলেন। ওই দৃশ্যটা যেখানে শুট করা হয়েছিল, সেখানেই মূলত দৃশ্যায়ন করা হয়েছিল র‌্যাঞ্চো আর পিয়ার ৪ লাখ রুপি ঘড়ির ডেমোর দৃশ্যকে। আমির খানের ছেলে জুনায়েদ খান পরোক্ষভাবে এই সিনেমার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি ছিলেন এই সিনেমার সহকারী পরিচালক।

রাজকুমার হিরানির তুরুপের তাস হলেনÑ সঞ্জয় দত্ত। হিরানির প্রায় সকল সিনেমাতেই সঞ্জয়ের সরব উপস্থিতি বিদ্যমান। তবে ‘পিকে’ সিনেমার মাধ্যমেই আমির খান এবং সঞ্জয় দত্তকে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে রুপালি পর্দায় দেখা গিয়েছিল। নব্বই দশকের শুরুতে ‘সাহাবজাদে’ (১৯৯২) সিনেমায় তাদের একসঙ্গে কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু আমির সেই প্রজেক্ট থেকে সরে আসায় সেটা পান আদিত্য পাঁচোলি।

পান চিবানোর পাশাপাশি আমিরকে ভোজপুরি ভাষা নিয়েও বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। দীর্ঘ ২ বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের পর ভোজপুরি ভাষা রপ্ত করেন তিনি। সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রে আমিরের বিপরীতে দেখা গেছে বলিউডের হার্টথ্রব আনুশকা শর্মাকে। তবে আমির-হিরানি সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা তার বহুদিনের। সেজন্য তিনি ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার জন্যও অডিশন দিয়েছিলেন।

বলিউডের কিংবা টালিউডের শিল্পী মহলে মোনালি ঠাকুরের বেশ কদর আছে। মিষ্টি কণ্ঠের এই গায়িকা হাজির হয়েছিলেন ‘পিকে’ সিনেমার একটি দৃশ্যে। এতে একজন মুসলিম বালিকাকে স্কুল শিক্ষার্থীদের কাছে ফতোয়া নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। ওই বালিকার চরিত্রেই ক্ষণিকের জন্য তিনি পর্দায় এসেছিলেন।

আমির খান ‘পিকে’ সিনেমার গল্পের মেইন প্রোটাগনিস্ট হলেও প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের চরিত্র সরফরাজ ইউসুফও যথেষ্ট প্রাধান্য পেয়েছিল। তবে গল্পে একবারের জন্যেও পিকে আর সরফরাজের সাক্ষাৎ হয়নি।

রাজকুমার হিরানি এবং অভিজাত জোশি সিনেমার গল্প বুনতে বসেছিলেন, তখন তারা এমন এক ক্যারেক্টার ডেভেলপ করার কথা ভেবেছিলেন, যে মানুষের মন পড়ার ক্ষমতা রাখবে। ওই মানুষকে একজন ভালো মানুষে রূপান্তর করে দিবে। দীর্ঘ এক বছর ধরে সেই অনুযায়ী গল্প সাজিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ২০১০ সালে ক্রিস্টোফার নোলানের ইনসেপশন সিনেমা মুক্তি পাবার পর তারা দেখেন, কাকতালীয়ভাবে তাদের গল্পের সঙ্গে ইনসেপশনের গল্প মিলে যাচ্ছে। পুরোপুরি আকাশ থেকে পড়েছিলেন তারা। তাই ওখানেই বন্ধ করে দেন গল্প লেখার কাজ। বিরতি নিয়ে পুনরায় শুরু করেছিলেন তারা। এবার গল্প লিখলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আঙ্গিকে, পুরোপুরি নতুন এক ধাঁচে। তিন বছর পর সমাপ্ত হয় সেই গল্পের কাজ।

আমির খানকে বলা হয় বলিউডের বক্স অফিস কিং। ‘থ্রি ইডিয়টস’ দিয়ে বক্স অফিসে নতুন কিছু মাইলফলক সংযোজনের পর ‘পিকে’ দিয়ে সেগুলো আবার ভেঙে ফেলেন। ভারতে সাড়ে ২৬ কোটি রুপির এক দুর্দান্ত ওপেনিং দিয়ে ওপেনিং উইকেন্ডে সাড়ে ৯৫ কোটি রুপি পকেটে পুরে পিকে। মাত্র তিন সপ্তাহেই ৩০০ কোটির ক্লাবে পৌঁছে যায় সিনেমাটি।

‘পিকে’ সিনেমার স্যাটেলাইট স্বত্ব বিক্রি করা হয়েছিল রেকর্ড ৮৫ কোটি রুপিতে। ওই সময়ের হিসেবে তা ছিল বলিউড ফিল্মের হিসেবে সর্বোচ্চ। সিনেমাটি ডমেস্টিক্যালি ৩০০ কোটির কাছাকাছি আয় করতে পারে, এই চিন্তা-ভাবনা নিয়েই এত দাম হাঁকিয়েছিল সিনেমার প্রযোজনা সংস্থা।

দেশের বাইরেও দারুণ সফলতা পায় ‘পিকে’। ২৯৬ কোটির গ্রোস কালেকশন নিয়ে পুরো বিশ্ব থেকে পিকের লাইফটাইম কালেকশন দাঁড়ায় ৭৭০ কোটি রুপিতে। ভারতের প্রথম সিনেমা হিসেবে সেটা ৭০০ কোটি ক্লাবের পা রাখার পাশাপাশি প্রথম ভারতীয় সিনেমা হিসেবে বিশ্বব্যাপী ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করা সিনেমা ছিল ‘পিকে’। সেরা ডায়লগ এবং সেরা চিত্রনাট্যের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতে নেয় সিনেমাটি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!