ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পাঁচ সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের একভাগের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, নির্ধারিত ন্যূনতম ভোট অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এই পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আসনটিতে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৩১৪টি। সেই হিসেবে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ২৮ হাজার ৯১৪ ভোট (প্রায়)। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পাঁচ প্রার্থীর কেউই ওই সীমা অতিক্রম করতে পারেননি।
ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. জসিম পেয়েছেন ২ হাজার ২৭৭ ভোট। জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙল প্রতীকের প্রার্থী মো. জহিরুল হক খান পেয়েছেন ২ হাজার ৪৫৩ ভোট। গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. জহিরুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ১০৭ ভোট। ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মনোনীত সাদা গোলাপ প্রতীকের প্রার্থী রাফি উদ্দিন পেয়েছেন ৭৭৩ ভোট এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি মনোনীত আম প্রতীকের প্রার্থী শাহীন খান পেয়েছেন ১০৯ ভোট। প্রাপ্ত ভোটের হার অত্যন্ত কম হওয়ায় তাদের সবার জামানত বিধিমোতাবেক বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
এ আসনে মোট ভোটারসংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৬৪৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ২৫৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৬ জন। মোট পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১৯৬ জন। কসবা ও আখাউড়াÑ এই দুই উপজেলায় ১৩০টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে কসবা উপজেলায় তুলনামূলক বেশি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শানিয়াজ্জামান তালুকদার বলেন, নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী প্রাপ্ত মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের একভাগ না পাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের পাঁচজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন