ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

এক শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০২:৩৭ এএম

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ২১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ‘সোনার তরী’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটে চলছে। গত দেড় বছর ধরে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।

উপজেলা শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে উপজেলার মাগুরখালি ইউনিয়নের দুর্গম কোড়াকাটা গুকুরমারী এলাকায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে নাম পরিবর্তন করে ‘সোনার তরী’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রাখা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষকরা পর্যায়ক্রমে বদলি বা চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন শূন্যতা বিরাজ করে। ২০২৪ সালের ৩ জুলাই সুজিত কুমার ভদ্র ও নীলা ঢালী নামে দুই শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তবে একই বছরের আগস্টে নীলা ঢালী ডেপুটেশনে শহরের কাছাকাছি অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকে সুজিত কুমার ভদ্র একাই বিদ্যালয়ের সব শ্রেণির পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে সরেজমিন দেখা যায়, ভবনের বাইরে জাতীয় পতাকা উড়ছে। ভেতরে একটি কক্ষে একাই পাঠদান করছেন শিক্ষক সুজিত ভদ্র। সেখানে উপস্থিত ছিল দুই শিক্ষার্থী-দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শ্রুতি রায় এবং তার ছোট বোন, প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থী। অন্য শ্রেণিগুলোর শিক্ষার্থী সংখ্যা অত্যন্ত কম। জানা যায়, প্রথম শ্রেণিতে একজন, তৃতীয় শ্রেণিতে তিনজন, চতুর্থ শ্রেণিতে পাঁচজন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে চারজন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে উপস্থিতির হার নিয়মিত নয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুজিত ভদ্র বলেন, ‘একদিকে শিক্ষক সংকট, অন্যদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। অভিভাবকরা ভালো শিক্ষার মান যেখানে পান, সেখানেই সন্তানদের ভর্তি করান।’

বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি বিমল কৃষ্ণ ম-ল বলেন, ‘এলাকায় জনবসতি কম। তার ওপর মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে স্কুল চালালে শিক্ষার্থী থাকবে কীভাবে?’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক নেতা জানান, উপজেলায় এক হাজারেরও বেশি শিক্ষক কর্মরত আছেন। কিছু বিদ্যালয়ে ৮-১০ জন শিক্ষক থাকলেও এই বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত শিক্ষক দেওয়া হয়নি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান একজন শিক্ষকই গত দেড় বছর ধরে পাঠদান অব্যাহত রাখার কথা স্বীকার করে বলেন, আগে কয়েকজন শিক্ষক চাকরি ছেড়ে চলে যান। পরে দুজন যোগ দিলেও নারী শিক্ষকের যাতায়াত ও থাকার সমস্যার কারণে তাকে অন্যত্র পাঠানো হয়।’ তবে দীর্ঘ সময়েও নতুন শিক্ষক না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাননি তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিদুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবিলম্বে আরও একজন শিক্ষক দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অব্যবস্থাপনার কারণে বিদ্যালয়টি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।