ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আলোচনায় একাধিক নারী নেতৃত্ব

মহিলা আসন ঘিরে সরগরম রাজনীতি

তাপস মাহমুদ, বরগুনা
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৬:২১ এএম

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনকে কেন্দ্র করে বরগুনার রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নতুন উদ্দীপনার হাওয়া। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা, তৃণমূল সম্পৃক্ততা ও সামাজিক কর্মকা-Ñ এই চার মানদ-ে একাধিক নারী নেতৃত্বের নাম ঘুরপাক খাচ্ছে আলোচনার কেন্দ্রে।

প্রফেসর নুর শাহানা হক :

দীর্ঘ শিক্ষাজীবন ও সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণে অধ্যাপক নূর শাহানা হক বরগুনায় একটি পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য নাম। বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার পর শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। অবসর গ্রহণের পর পূর্ণ সময় রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকা-ে সক্রিয় রয়েছেন। তার স্বামী মরহুম ফজলুল হক ছগীর ছিলেন বরগুনার একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ এবং সদর উপজেলার প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার বিস্তার ও নারীর ক্ষমতায়নে তার ভূমিকা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখছে।

ইশরাত জাহান রিক্তা :

জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য ইশরাত জাহান রিক্তার নামও আলোচনায় রয়েছে। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহাবুবুল আলম ফারুক মোল্লার মেয়ে এবং সাবেক যুববিষয়ক সম্পাদক মহিউদ্দিন বাদল খানের সহধর্মিণী তিনি। দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ, নির্বাচনি প্রচারণায় অগ্রণী ভূমিকা এবং নারীর আত্মনির্ভরশীলতা নিয়ে কাজ করার কারণে তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তৃণমূলেও।

শারমিন সুলতানা আসমা :

জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী ও বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শারমিন সুলতানা আসমা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

আসমা আজীজ :

কেন্দ্রীয় মহিলা দলের স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক আসমা আজিজ দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকা-ে সক্রিয়। শিক্ষাজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রাখছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনিও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন।

জাকিয়া সুলতানা শিরীন :

উপকূলীয় জনপদের মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত জাকিয়া সুলতানা শিরীন শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চায় স্বতন্ত্র পরিচয়ের অধিকারী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী এই নেত্রী ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয়। তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ছয়টি। দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনিও আলোচনায় থাকা সম্ভাবনাময় মুখ।

অ্যাডভোকেট রনজুয়ারা শিপু :

আইন পেশায় সক্রিয় অ্যাডভোকেট রঞ্জুয়ারা শিপু নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতার কারণে গুরুত্ব পাচ্ছেন। তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সহায়তা প্রদান এবং মানবাধিকারভিত্তিক কর্মকা- তাকে জনমুখী নেতৃত্ব হিসেবে পরিচিত করেছে।

অ্যাডভোকেট মেহবুবা জুঁই :

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মেহবুবা আক্তার জুঁই জাতীয় পর্যায়ের আইনগত অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার কারণে বিশেষভাবে আলোচিত। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

নাজমুন নাহার পাপড়ি :

তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে নাজমুন নাহার পাপড়ি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকা-ের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে পরিচিতি পেয়েছেন। দলীয় কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি এবং নারী সংগঠনে সম্পৃক্ততা তাকে আলোচনায় এনেছে।

অ্যাডভোকেট মারজিয়া হীরা :

পাথরঘাটা উপজেলার কৃতী সন্তান অ্যাডভোকেট মারজিয়া হিরা বর্তমানে ঢাকা নারী ও শিশু আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে।

মীরা খান :

আমতলী উপজেলার মীরা খান দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মাঠ পর্যায়ে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তৃণমূল সংগঠনকে সুসংগঠিত করা এবং নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সাদিকা হক শুকতারা :

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকা হক শুকতারা ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে আলোচনায় রয়েছেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে তার অবস্থান তরুণদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত মহিলা আসন ঘিরে একাধিক যোগ্য নারী নেতৃত্বের সক্রিয়তা বরগুনার রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। চূড়ান্ত মনোনয়ন যিনিই পান না কেন, তিনি যেন বরগুনার নারী সমাজের অধিকার, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনÑ এমন প্রত্যাশাই এখন জেলার সর্বস্তরের মানুষের।