রাজধানীর দ্বিতীয় দ্রুতগতির উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণ নাকাল জনজীবন। শুকনো মৌসুমে ধুলোবালির রাজ্যে পরিণত হয়েছে শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়া। বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়েছে কয়েকগুণ। শীতের কুয়াশার মতো ধুলায় আচ্ছাদিত রাস্তা। চলন্ত যানবাহনের পেছনে কু-লী পাকিয়ে বাতাসে উড়ছে ধুলাবালি। সড়কের দুই পাশের দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর ধুলায় সয়লাব। স্বাস্থ্যবিদ ও পরিবেশবিদরা বলছেন, সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা না বাড়লে অদূর ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়বে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তায় নামলেই নাকাল হচ্ছেন পথচারীরা। নাকে-মুখে ও চোখে ধুলা ঢুকে দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম। দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে জনজীবন। দূষিত পরিবেশে বাড়ছে নানা রোগবালাই। বিশেষ করে অ্যাজমা, অ্যালার্জি, কাশি ও শ^াসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বারে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে আব্দুল্লাহপুর সড়কটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাতায়াতের প্রধান পথ এটি। প্রতিদিন হাজারো পণ্যবাহী যান, গণপরিবহন ও সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। এই সড়কের ওপর দিয়েই নির্মিত হচ্ছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবেÑ এমন আশা থাকলেও বর্তমানে ভোগান্তির শেষ নেই জনসাধারণের। রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে, তীব্র যানজট ও অতিরিক্ত ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা। কাজ চলাকালে নি¤œমানের মেরামত ও সংস্কার কার্যক্রম পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গণপরিবহনের যাত্রীরাও ধুলায় নাকাল হচ্ছেন। পোশাক ও শরীর ধুলায় বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সড়কের পাশের শোরুম, খাবারের দোকান, হোটেল ও রেস্তোরাঁ ধুলায় একাকার। আশপাশের ভবন ও গাছপালায় জমেছে ধুলার আস্তরণ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন সড়কে দায়িত্বরত পুলিশ ও ট্রাফিক সদস্যরা, ভ্যান ও রিকশাচালক এবং গণপরিবহনের চালক-যাত্রীরা। পথচারী ও ব্যবসায়ীদের দাবি, সড়কে নিয়মিত পানি ছিটানো হচ্ছে না। প্রতিদিন পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করলে ধুলার প্রকোপ কিছুটা কমানো সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
টাঙ্গাইল রেসিডেনশিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠাতা মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘ধুলাবালির কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নানা অসুখে ভুগছে।’ এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রফেসর ডা. শাকিল মাহমুদ বলেন, ‘বায়ু দূষণের মারাত্মক শিকার হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। এ সময়ে শিশুদের অ্যাজমাসহ শ^াসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে। আমাদের কাছে রোগী আসার হার আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে শীত মৌসুমে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এইচ এম সাদাত বলেন, ‘অপরিকল্পিত ও সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়ি, উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি এবং সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় দমবন্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যানবাহন ও কল-কারখানার কালো ধোঁয়া। বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ ট্রান্সপোর্ট ও কনস্ট্রাকশন কার্যক্রম।’
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে যদি নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যা পানি না ছিটানো হয়, তা হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, ‘পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা পেতে সাভার ও আশুলিয়াকে ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন