× UCB Sticker Card
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মিনহাজুর রহমান নয়ন

প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০২:৪০ এএম

শ্রাবণ মেঘের দিনে চাষবাস

মিনহাজুর রহমান নয়ন

প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০২:৪০ এএম

শ্রাবণ মেঘের দিনে চাষবাস

বর্ষার প্রথম ফোঁটা যখন শুকনো মাটির বুকে পড়ে, তখন শুধু ধুলোর গন্ধই জাগে নাÑ জেগে ওঠে বাংলার কৃষকের হাজার বছরের আশা। আকাশজুড়ে জমে থাকা কালো মেঘ, দূরের বাঁশবনে বাতাসের গুঞ্জন, নদীর বুক ছাপিয়ে ওঠা জল আর ধানখেতে টুপটাপ বৃষ্টির সুরÑ এসব মিলিয়েই আসে শ্রাবণ। এই মাস প্রকৃতির কাছে যেমন প্রেমের, তেমনি কৃষকের কাছে পরিশ্রমের। কারণ, শ্রাবণের প্রতিটি বৃষ্টিবিন্দুর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আগামী দিনের সোনালি ধানের স্বপ্ন।

বৃষ্টির সুরে জেগে ওঠে মাঠের প্রাণ

শ্রাবণে বাংলাদেশের গ্রাম যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। কয়েক সপ্তাহ আগেও যে জমি রোদে ফেটে চৌচির ছিল, সেখানে এখন কোমল সবুজের কারুকাজ। কৃষকের পায়ের ছাপ লেগে থাকে কাদামাটির আইলে, আর সেই কাদা মেখেই তিনি ভবিষ্যতের খাদ্যভান্ডার গড়ে তোলেন।

রোপা আমনের চারা একে একে নেমে যায় পানিভরা জমিতে। কিষানির আঁচল ভিজে যায় বৃষ্টিতে, কৃষকের কাঁধে জমে কাদার ভারÑ তবু মুখে থাকে একরাশ প্রশান্তি। কারণ তিনি জানেন, আজকের এই কষ্টই কয়েক মাস পর গোলাভরা ধানের হাসিতে রূপ নেবে।

শ্রাবণ মানেই সোনালি সম্ভাবনার দিন

একদিকে আউশ ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা, অন্যদিকে পাট কাটার উৎসব। কোথাও পুকুরপাড়ে আঁশ ছাড়ানোর দৃশ্য, কোথাও উঠোনজুড়ে শুকাতে দেওয়া পাটের আঁশ। বাংলার অর্থনীতি, সংস্কৃতি আর কৃষির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই ফসল যেন শ্রাবণের বৃষ্টিতে নতুন প্রাণ পায়।

এ সময় কৃষকের দিন শুরু হয় ভোরের আলো ফোটার আগেই। কখনো ধান কাটা, কখনো জমিতে চারা রোপণ, কখনো আগাছা পরিষ্কার, আবার কখনো অতিবৃষ্টির পানি সরানোর ব্যস্ততা। সূর্য ডোবার পরও শেষ হয় না তার কাজ। কারণ কৃষি শুধু পেশা নয়, এটি জীবনকে টিকিয়ে রাখার এক অবিরাম সাধনা।

সবজি খেতে বৃষ্টির গান

লাউয়ের মাচা, কুমড়ার লতা, করলার ডাল কিংবা ঢ্যাঁড়শের সবুজ গাছÑ সবই যেন বৃষ্টির ছোঁয়ায় আরও সজীব হয়ে ওঠে। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালেও থাকে উদ্বেগ। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ছত্রাকের আক্রমণ কিংবা পোকার বিস্তার মুহূর্তেই নষ্ট করে দিতে পারে মাসের পর মাসের শ্রম।

তাই শ্রাবণ শুধু প্রকৃতির ওপর নির্ভরতার মাস নয়, এটি সচেতন কৃষিচর্চারও সময়। সঠিক পরিচর্যা, সুষম সার, পানি নিষ্কাশন আর নিয়মিত পর্যবেক্ষণই পারে সবুজকে রক্ষা করতে।

প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই, তবু হার মানেন না কৃষক

শ্রাবণের আকাশ সব সময় একরকম থাকে না। কখনো মুষলধারে বৃষ্টি, কখনো ঝড়ো হাওয়া, আবার কখনো কয়েক দিনের বিরতি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই অনিশ্চয়তা কৃষকের কাঁধে নতুন দুশ্চিন্তা চাপিয়ে দিয়েছে। তবু তিনি থেমে থাকেন না।

বাঁধ ভেঙে গেলে আবার বাঁধ তোলেন, চারা ভেসে গেলে আবার রোপণ করেন, ঝড়ে গাছ ভেঙে গেলে নতুন চারা লাগান।

কারণ কৃষকের অভিধানে পরাজয় বলে কোনো শব্দ নেই; আছে কেবল নতুন করে শুরু করার সাহস।

শ্রাবণ-বাংলার জীবনের এক চিরন্তন কবিতা

বাংলার ঋতুচক্রে শ্রাবণ কেবল একটি মাস নয়, এটি মাটি, মানুষ আর জীবনের এক গভীর বন্ধনের নাম। এই মাসে আকাশের প্রতিটি মেঘ যেন কৃষকের প্রার্থনার উত্তর হয়ে আসে। প্রতিটি বৃষ্টিধারা মিশে যায় ধানের শীষে, পাটের আঁশে, সবজির পাতায়, ফলের বাগানে।

শ্রাবণের কাদামাখা পথ ধরে যে কৃষক এগিয়ে যান, তার হাতেই লেখা হয় দেশের খাদ্যনিরাপত্তার ইতিহাস। শহরের মানুষের ভাতের থালা, বাজারের সবজি, রান্নাঘরের প্রতিটি শস্যদানাÑ সবকিছুর পেছনেই রয়েছে সেই মানুষের নীরব শ্রম, যার মুখে বড় কোনো দাবি নেই, আছে শুধু আকাশভরা বৃষ্টির অপেক্ষা।

শ্রাবণ তাই শুধু বর্ষার নয়; এটি বাংলার কৃষকের সবচেয়ে বড় কর্মযজ্ঞের মাস। প্রকৃতি আর মানুষের এই অনন্য মিলনই প্রতি বছর নতুন করে লিখে যায় সবুজের মহাকাব্যÑ যে মহাকাব্যের প্রতিটি পঙ্ক্তি লেখা হয় বৃষ্টির জলে, কাদামাটির গন্ধে আর কৃষকের ঘামে।

কোন ফসলে কী পরিচর্যা

রোপা আমন ধান

২০-২৫ দিনের সুস্থ চারা কাদাযুক্ত জমিতে রোপণ করতে হয়। জমিতে অল্প পানি ধরে রেখে সময়মতো সার ও আগাছা দমন করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

আউশ ধান

পেকে গেলে দ্রুত কেটে মাড়াই করে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। অতিবৃষ্টির আগে ফসল ঘরে তোলা নিরাপদ।

পাট

গাছ পরিপক্ব হলে কেটে ১০–১৫ দিন পরিষ্কার পানিতে জাগ দিতে হয়। এরপর আঁশ ছাড়িয়ে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করলে ভালো মানের পাট পাওয়া যায়।

বর্ষাকালীন সবজি

লাউ, কুমড়া, ঝিঙা, করলা, শসা, ঢ্যাঁড়শ, বরবটি ও মরিচ উঁচু বেড বা মাচায় চাষ করা ভালো। জমিতে পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিচর্যা করলে ফলন বাড়ে।

কচু

ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে জমিতে কচুর বৃদ্ধি ভালো হয়। গোড়ায় মাটি তুলে দিয়ে আগাছা পরিষ্কার রাখতে হয়।

কলা

চারা রোপণের পর গাছের গোড়ায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ঝড়ে যাতে গাছ ভেঙে না যায়, সে জন্য খুঁটি দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়।

পেঁপে

উঁচু জমিতে চাষ করা উত্তম। অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং প্রয়োজনমতো জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করলে ফলন ভালো হয়।

মরিচ ও বেগুন

পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো রাখতে হবে। রোগ-পোকার আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!