চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চরম শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০টিতেই দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে উপকূলীয় এলাকার বিদ্যালয়গুলো। কোথাও কোথাও একজন শিক্ষক দিয়ে ছয়টি শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া ২৭টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম ভেঙে পড়ার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারায় মোট ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২১ হাজার ৯৮০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এর মধ্যে ৫০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই এবং ২৭টিতে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে আনোয়ারা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্বগহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ গহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মালঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর ইছাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ ইছাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক সংকটে রয়েছে দক্ষিণ গহিরা, পূর্বগহিরা, খিলপাড়া, হাইলধর, গুজরা, পরৈকোড়া ও চারুশীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ২৪টি বিদ্যালয়।
উপকূলীয় এলাকা দক্ষিণ গহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগে দুজন শিক্ষক থাকলেও এক বছর আগে তারা বদলি হয়ে যান। বর্তমানে বিদ্যালয়টি কার্যত শিক্ষকশূন্য। পূর্বগহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষক থাকলেও একজন প্রশিক্ষণে রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক না থাকায় অন্য একজন ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তাকেও সপ্তাহে কয়েকদিন অফিসিয়াল কাজে উপজেলা কার্যালয়ে যেতে হয়। ফলে ছয়টি শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম একজন শিক্ষকের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। খোর্দগহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও চরম শিক্ষক সংকটে রয়েছে।
পূর্বগহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইদ্রিছ আলম বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে দুই শিফটে ছয়টি শ্রেণির কার্যক্রম চলে। আমরা তিনজন শিক্ষক থাকলেও একজন প্রশিক্ষণে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় আমাকে সপ্তাহে দুই দিন উপজেলা কার্যালয়ে যেতে হয়। এতে পাঠদানে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।’
স্থানীয় অভিভাবক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের কারণে সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক পাঠদান হচ্ছে না, বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায়। তাই অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের কিন্ডারগার্টেন বা অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিন্দোল বারী জানান, নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকা, অবসর গ্রহণ ও বদলিজনিত কারণে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে। উপকূলীয় বিদ্যালয়গুলোতে বদলিকৃত শিক্ষকরা এখনো নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শূন্যপদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

