সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মহিষখলা-বাঙ্গালভিটা সড়ক যেন ধুলার রাজ্যে পরিণত হয়েছে। সামান্য বাতাস বা একটি যানবাহন চলাচল করলেই বাতাসে ধুলার ঘন মেঘ তৈরি হচ্ছে। বাগলী শুল্ক স্টেশন থেকে চুনাপাথর এবং চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন থেকে কয়লাবোঝাই শত শত ট্রাক প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করায় কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র ধুলা উড়ছে। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারী, যানবাহনের চালক এবং রাস্তার পাশের দোকানদাররা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগলী শুল্ক স্টেশন ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন থেকে ট্রাকে করে কয়লা ও চুনাপাথর মহিষখলা-বাঙ্গালভিটা সড়ক হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হচ্ছে। প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের দুই পাশের হাটবাজার, বসতবাড়ি ও গাছপালায় ধুলার স্তর জমে থাকছে। ফলে সড়কটি প্রায় সারাক্ষণই ধুলায় আচ্ছন্ন থাকে।
এদিকে, বর্তমানে মহিষখলা-বাঙ্গালভিটা সড়কের সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। সংস্কারের সময় মাটি ও খোয়া উঠে যাওয়ায় ট্রাক চলাচলের সময় ধুলার পরিমাণ আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মহিষখলা বাজার ও গোলগাঁও বাজার এলাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পর্যটন এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ধুলার কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ট্রাকচালক মো. রফিক মিয়া বলেন, সড়কে পানি ছিটানোর জন্য মালিকদের কাছ থেকে স্থানীয় কিছু বিএনপির নেতাকর্মী ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে নিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে পানি ছিটানো হচ্ছে না। তবে কারা এই টাকা নিচ্ছেন সে বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানান তিনি। ইছামারী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাছেদ নাকে-মুখে গামছা বেঁধে সড়ক দিয়ে হাঁটছিলেন। তিনি বলেন, ‘গামছা দিয়েও ঠিকমতো হাঁটা যায় না। চারদিকে শুধু ধুলা আর ধুলা। প্রতিদিন শত শত ট্রাক চলাচলের কারণে বাড়িঘরেও থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
রূপনগর গ্রামের বাসিন্দা আকিকুর রহমান বলেন, ধুলার কারণে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বাড়িতে থাকা যেমন কষ্টকর হয়ে পড়েছে, তেমনি সড়ক দিয়ে হাঁটাচলাও করা যাচ্ছে না। ট্রাক চলাচলের সময় ঘন ধুলায় সামনে কিছুই দেখা যায় না। মাদ্রাসার ছোট ছোট শিশু ও বয়স্ক মানুষ ধুলার কারণে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছেন না। বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্ভোগ পোহালেও তা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে বাগলী কয়লা আমদানিকারক সমিতির সদস্য মো. কামাল হোসেন বলেন, তাদের সমিতির উদ্যোগে সড়কে নিয়মিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে শুধু পানি ছিটালেই ধুলা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। কারণ আশপাশের খোলা জায়গা ও সড়কের পাশের এলাকা থেকেও ধুলা উড়ে আসে।
তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সিনিয়র সহ-সভাপতি সামসু মেম্বার বলেন, তিনি বর্তমানে কিশোরগঞ্জে অবস্থান করছেন। তবে তার জানা মতে মানুষের সমস্যার কথা বিবেচনা করে চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন থেকে ট্রাক চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে বাগলী শুল্ক স্টেশন থেকেই ট্রাক চলাচল করছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন