ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

২১ কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সংকট

মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৬:৫৩ এএম

ওষুধ সংকটে পড়েছে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। সেখানে ওষুধ না পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটছেন সেবাপ্রার্থীরা। এতে নিজ নিজ এলাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা। গত ৬ মাস ধরে এমন বিড়ম্বনায় পড়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ২১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে গ্রামের মানুষরা স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। রোগীদের সুবিধার্থে প্রায় বাইশ প্রকার ওষুধ বিনা মূল্যে এখান থেকে সরবরাহ করা হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে ওষুধের সরবরাহ না থাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে কিছুটা সংকট তৈরির কথা জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। 

সরেজমিনে উপজেলার নরহরিপুর, নয়নপুর, ভরণীখন্ড, বাতাবাড়িয়াসহ বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক গিয়ে দেখাা যায়, ওষুধ না পেয়ে সরকারি এসব ক্লিনিক থেকে খালি হাতে ফিরছেন সেবাপ্রার্থীরা। সেসব এলাকার অন্ততঃ দশজন বাসিন্দার সঙ্গে হলে গত প্রায় ৬ মাস ধরেই এমন সংকট তৈরি হওয়ার কথা জানান তারা। সেবাবঞ্চিত গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে ছুটছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। অনেকেই সামর্থ্য না থাকায় বাহির থেকেও ওষুধ কিনতে পারছেন না। অবিলম্বে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের দাবি জানান তারা।

উপজেলার ঝলম (দঃ) ইউপির নরহরিপুরের বাসিন্দা সাফায়েত হোসেন বলেন, এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ না থাকায় প্রায় ৬ কি.মি. দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সেবা নিতে হয়। উপজেলার হাসনাবাদ ইউপির নয়নপুর এলাকার নুরুল ইসলামও একই অভিযোগ করেন। সেখানে যাতায়াতে আর্থিক কষরতসহ নানা বিড়ম্বনায় পড়ার কথা জানিয়েছেন তারা। এর প্রভাব পড়ছে গ্রামের নিরিহ, অসহায় ও গরিব মানুষের স্বাস্থ্যসেবায়।

উপজেলার সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ও মনিপুর কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) কাজী আবু মঞ্জুর এর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ওষুধ সংকট এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ গত বছরের আগস্ট মাসে ৪ কার্টন ওষুধ পেয়েছেন। এরপর আর কোনো ওষুধ পাওয়া যায়নি। রোগীদের কিছু কম কম করে দিয়ে অন্ততঃ ২-৩ মাস এ ওষুধেই চালিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল বাশার বলেন, গত ছয় মাস ধরে এখানে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সরবরাহ বন্ধ থাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না। প্রাপ্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ বিতরণের কথা জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াংকা চক্রবর্তী বলেন, ‘পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় রোগীদের সেবা প্রদানে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওষুধের পাশাপাশি অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’