× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৬:১৪ এএম

সমন্বিত বাগানে ভাগ্যবদল

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৬:১৪ এএম

সমন্বিত বাগানে ভাগ্যবদল

টানাপোড়েনের সংসারে বড় হওয়া শরীফ জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। তবে সেখানে আশানুরূপ আয় না হওয়ায় দেশে ফিরে তিনি বেছে নেন কৃষিকেই। ভোলার চরফ্যাশনে মাল্টা, ড্রাগন ও লেবু চাষ করে এখন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে সবার নজর কেড়েছেন তিনি। উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫ একর জমিতে মিশ্র পদ্ধতিতে গড়ে তুলেছেন একটি আধুনিক ফলের বাগান। বিদেশ থেকে ফিরে বেকার না থেকে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিতে মনোনিবেশ করেন শরীফ। প্রথমে ভিয়েতনামি জাতের মাল্টা চাষে সফলতা পাওয়ার পর তিনি ভিয়েতনামি ড্রাগন ও চায়না সিডলেস (বীজহীন) লেবু চাষ শুরু করেন।

তিনি জানান, বীজহীন লেবু অত্যন্ত লাভজনক এবং সারা বছর ফলন দেয়। অল্প সময়ে অধিক মুনাফা হওয়ায় তিনি রাজশাহী থেকে শতশত লেবুর কলম সংগ্রহ করে রোপণ করেছেন। এই জাতের গাছ থেকে প্রায় ১৫ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।

২০২৩ সালে তিনি প্রথমবারের মতো ১৬০ শতাংশ জমিতে ভিয়েতনামি বারোমাসি উচ্চ ফলনশীল মাল্টা চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেন। বর্তমানে তার বাগানে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি মাল্টা গাছ রয়েছে, প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ৬০ কেজি ফলন পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে এসব মাল্টা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া তার খামারে রয়েছে প্রায় ৭ হাজার ড্রাগন ফলের গাছ। গত বছর ড্রাগন বিক্রি করে প্রায় ৬ লাখ টাকা আয় করেছেন তিনি। চলতি বছরে এ আয় ১৫ লাখ টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন।

বাগানের মধ্যে তৈরি করা গভীর নালায় মাছ চাষ এবং পাড়ে শাক-সবজি আবাদ করে বাড়তি আয় করছেন শরীফ। পানি সংকট মোকাবিলায় তিনি খালের মতো জলাশয় তৈরি করে সেখান থেকে সেচের ব্যবস্থা করেছেন। গত এক বছরে মাছ বিক্রি করেই প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় হয়েছে বলে জানান তিনি।

শরীফ বলেন, ‘বিদেশ থেকে ফিরে বেকার না থেকে এলাকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতেই এই বাগান করেছি।’ তিনি জৈব সার ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ফল উৎপাদন করছেন এবং ড্রাগন চাষে কোনো হরমোন বা টনিক ব্যবহার করছেন না। তার উৎপাদিত ড্রাগন ফল ১৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সম্প্রতি তার বাগান পরিদর্শন করেন চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা। তিনি বলেন, জৈব পদ্ধতিতে ফল চাষ এই অঞ্চলের কৃষকদের নতুন আশা দেখাচ্ছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা মাল্টার চেয়ে দেশে চাষ করা মাল্টার স্বাদ কোনো অংশে কম নয়। প্রক্রিয়াজাতকরণ ও দীর্ঘ সংরক্ষণের জন্য বিদেশি মাল্টার পুষ্টিমান ও স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বাগানের মাল্টায় সেই চিন্তা নেই। তার বাগানের ড্রাগন ফলে নতুন ফুল ও ফল এসেছে। কোনো রকম টনিক বা হরমন ব্যবহার ছাড়াই উৎপাদিত ড্রাগন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা তাকে পরামর্শের পাশাপাশি বিভিন্ন সহায়তা করেছেন। তার এই ফলের বাগান দেখে অনেক চাষি বা বেকার যুবকরা তাকে অনুসরণ করবে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!