সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার হাওরাঞ্চলে বোরো মৌসুমে ধান কাটা ও ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। হাওরের গভীর এলাকা থেকে পাকা ধান কেটে খোলায় আনতে গিয়ে ভাঙাচোরা কাঁচা সড়কের কারণে পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এতে সময়, খরচ ও শ্রমÑ সবদিক থেকেই বিপাকে পড়ছেন তারা।
স্থানীয় কৃষক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ হাওর সড়ক এখনো কাঁচা ও অপরিকল্পিত অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব রাস্তা কাদায় পরিণত হয়। ফলে ট্রলি, ট্রাক, পিকআপ এমনকি ঠেলাগাড়ির চলাচলও হয়ে পড়ে কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে ধানবোঝাই ট্রলি রাস্তার গর্তে আটকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে থাকে। এতে একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
শালদিঘা হাওরের কৃষক রাবিকুল ইসলাম বলেন, হাওরের ভেতর থেকে ধান এনে খোলায় তুলতে পাকা সড়ক খুবই প্রয়োজন। কাঁচা রাস্তার কারণে দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রতি বস্তা ধান ৩০ থেকে ৪০ টাকা খরচ করে ট্রলিতে আনতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য বড় চাপ। একই ধরনের অভিযোগ করেন বাইনসাপড়া হাওরের কৃষক সাগর সরকার। তিনি বলেন, ধান উৎপাদন করেও লাভ থাকছে না। পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ধান কাটা ও আনার খরচ মিটাতে গিয়েই আসল টাকাও ওঠানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তার ওপর শ্রমিক সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে টেকসই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। হাওরাঞ্চলের সড়কগুলো উন্নয়ন করা না হলে কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কৃষকরা বছরের পর বছর পরিশ্রম করে ফসল ফলালেও সড়ক ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে তা ঘরে তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন, যা কৃষিতে আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, চলতি মৌসুমে হাওরাঞ্চলে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে টেকসই সড়ক অবকাঠামোর অভাবে কৃষকদের পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং দুর্ভোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, হাওরাঞ্চলের সড়কগুলো উন্নত ও পাকা করা গেলে কৃষকরা সহজে ও দ্রুত ধান পরিবহন করতে পারবেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে।

