প্রচ- গরমে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া রোগ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ বাড়ার পাশাপাশি শয্যা সংকট ও ওষুধের ঘাটতিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন অভিভাবকরা।
সরেজমিনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশু রোগীতে ওয়ার্ডটি ভর্তি। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত শয্যার বাইরে অতিরিক্ত রোগীকে মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শহরের মুনজিতপুর এলাকার গৃহবধূ ময়না খাতুন তার ১১ মাস বয়সি শিশু আররায়হানকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি জানান, স্যালাইন পেলেও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে তালা উপজেলার কানাইদিয়া গ্রামের গৃহবধূ পাপিয়া খাতুনের ক্ষেত্রে। তিনি তার ১০ মাস বয়সি ছেলে মোছাব্বির হোসেনকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করান। তার অভিযোগ, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর এবং বেশিরভাগ ওষুধ বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। হাসপাতালে স্যালাইন ছাড়া তেমন কিছু পাওয়া যাচ্ছে না।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫০ দিনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি শিশু হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৭১৮ জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার, সদর হাসপাতালে ৫৭৭ এবং বেসরকারি হাসপাতালে ১৪১ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন বহির্বিভাগেও বিপুলসংখ্যক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সামছুর রহমান জানান, মার্চ-এপ্রিল থেকে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এর ফলে ডায়রিয়ার পাশাপাশি জ্বর ও বমির প্রবণতাও বাড়ে। তিনি শিশুদের মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং পচা-বাসি খাবার থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান জানান, শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে। শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন