ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফাইলেরিয়া হাসপাতাল যেন ভূতুড়ে বাড়ি

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ০৬:২১ এএম

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে বর্তমানে হাসপাতালের ভেতরে আগাছায় ভরে গেছে। সেই সঙ্গে চিকিৎসা কার্যক্রম না থাকায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত দেশের বিখ্যাত ফাইলেরিয়া হাসপাতালটি ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ পাশর্^বর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান থেকে আসা ফাইলেরিয়া রোগীরা চিকিৎসাসেবা না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উত্তরের জেলা নীলফামারীসহ ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় ফাইলেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। এ রোগের চিকিৎসার জন্য ২০০২ সালে জাপান সরকারের অর্থায়নে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ এলাকায় ৭৫ শতক জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত যাত্রা শুরু করে ফাইলেরিয়া হাসপাতালটি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ইম্যুনোলজি অব বাংলাদেশ (আইএসিআইবি) হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে ছিল। হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রকল্প পরিচালক ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন ওই সময় স্থানীয়ভাবে ১৮ জন দেশি-বিদেশি চিকিৎসককে নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। জাপান, কানাডা ও বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় দুটি বহুতল ভবন নিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। জাপান ও অন্যান্য দেশ থেকেও গবেষণা কর্মীরা আসেন এখানে। তবে ২০১২ সালে হাসপাতালটিকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে সংকট সৃষ্টি হয়। পরিচালনা কমিটির দ্বন্দ্বে ভেঙে পড়ে সেবা কার্যক্রম। মুখ ফিরিয়ে নেয় দাতা সংস্থাগুলো। এরপর থেকে ধুঁকে ধুঁকে চলছিল হাসপাতালটি। ফলে ২০২০ পর্যন্ত হাসপাতালের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। পরে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ প্যারামেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন নামে এক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভুয়া চুক্তিনামা করে আবার নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে হাসপাতালটি।

১০১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চাকরির প্রকার ভেদে জনপ্রতি ৫০ হাজার থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এরপর নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রায় বছরখানেক খাটানোর পরও বেতন-ভাতা না দেওয়ায় অনেকেই চাকরি ছেড়ে দেন। ২০২৩ সালের ২৬ মে ২৩ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। ওই সময় আগের বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলন করায় স্থানীয় লোকজন ও সিভিল সার্জন হাসপাতালটির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে সিলগালা করে দেন।

এ বিষয়ে নীলফামারী সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি এক বছর হয় নীলফামারী সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে এতটুকু জানতে পেরেছি ফাইলেরিয়া হাসপাতাল অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ও ল্যাবের কোনো অনুমোদন ছিল না। এ ছাড়া চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন-ভাতাসহ কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হতো না। চিকিৎসাসেবা হ-য-ব-র-লভাবে চালিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণামূলক আচরণ করা হচ্ছিল বলে ২০২০ সালে হাসপাতালটির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে সিলগালা করে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টি থাকলে দেশের একমাত্র ফাইলেরিয়া হাসপাতালটি পুনরায় চালু হতে পারে। সেবা পেতে পারে বাংলাদেশসহ এশিয়া মহাদেশের ফাইলেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা।