কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফেসবুকে স্ট্যাটাস, মেসেঞ্জারে হুমকি এবং সর্বশেষ ফেসবুক লাইভে গালিগালাজের জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুরের সোলাইমানপুর এলাকায় মেরাজ মেম্বার ও বাদশা মেম্বার গ্রুপের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে একাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। গতকাল শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ৭ ও ৮ মে একই সূত্র ধরে দুই দফায় সংঘর্ষে আরও ৩০ জন আহত হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সোলাইমানপুরের একই বংশের মধু মুন্সির বাড়ির সঙ্গে দিল মোহাম্মদের বাড়ির দ্বন্দ্ব চলছিল। সম্প্রতি মধু মুন্সির বাড়ির ফরহাদ মিয়া ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিলে সৌদি আরবে অবস্থানরত দিল মোহাম্মদের বাড়ির আনোয়ারের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। দুই সপ্তাহ আগে ফরহাদ দেশে ফিরলে এ ঘটনার জেরে ৭ ও ৮ মে দুই পক্ষ প্রথম দফায় সংঘর্ষে জড়ায়। ওই সময় দিল মোহাম্মদের বাড়ির পক্ষে যোগ দেয় ভবানীপুর নামাপাড়া এলাকার বাদশা মেম্বার গ্রুপ।
এরপর গত বুধবার স্থানীয়ভাবে বংশগত সেই বিরোধ মীমাংসা করে দেওয়া হয়। কিন্তু দিল মোহাম্মদের বাড়ির পক্ষে অংশ নেওয়া বাদশা মেম্বার গ্রুপের সঙ্গে মেরাজ মেম্বার গ্রুপের মধ্যকার রেশ থেকে যায়। গত শুক্রবার রাতে মেরাজ মেম্বারের পক্ষ থেকে ফেসবুকে লাইভে এসে বাদশা মেম্বারকে গালমন্দ করার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে রাতে বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিত-া ও মারামারি হলে স্থানীয়রা তা শান্ত করেন।
রাতের ঘটনার জের ধরে গতকাল শনিবার সকালে বাদশা মেম্বার গ্রুপ মেরাজ মেম্বার গ্রুপের ওপর চড়াও হলে তা বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই টেঁটা ও ইটপাটকেল যুদ্ধে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়। হামলাকারীরা রাস্তার পাশে থাকা আতর মিয়ার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ভৈরব থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে গুরুতর চারজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ভৈরব থানার ওসি মো. আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। দুপুরের দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকা থেকে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়েছে। নতুন সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন