উদ্বোধনের আড়াই বছর পার হলেও চালু হয়নি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা ২০ শয্যা হাসপাতাল। ফলে সীমান্তবর্তী পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষ এখনো জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। দ্রুত হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা সাঁকোর খাল এলাকায় প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটি ২০২৩ সালে উদ্বোধন করেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। পরে একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর হাসপাতালটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে উদ্বোধনের দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো শুরু হয়নি হাসপাতালটির কার্যক্রম।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১৬ কোটি ১৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৩৮ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে সেটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতালের কিছু মালামালও চুরি হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিকিৎসাসেবার জন্য বর্তমানে তাদের উপজেলা সদর, কোটচাঁদপুর কিংবা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে যেতে হয়। হাসপাতালটি চালু হলে দূরবর্তী এলাকায় যাতায়াতের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে। এলাকাবাসীর দাবি, সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে দ্রুত হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু করা হোক।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতালটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সচিব স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম শুরু হওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালটি চালু হলে মহেশপুর, কোটচাঁদপুর কিংবা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যেতে হবে না। সীমান্ত এলাকার মানুষ স্থানীয়ভাবেই স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।’ স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটি চালু হলে প্রতি মাসে সীমান্তবর্তী এলাকার অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন