ধান ও আম উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত উত্তরাঞ্চলের জেলা নওগাঁ। রপ্তানিযোগ্য ও কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রতিবছর আমচাষিরা ব্যাপক হারে ফ্রুট ব্যাগিং করে থাকেন। তবে চলতি মৌসুমে চাহিদামতো ফ্রুট ব্যাগ না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলার আমচাষিরা। একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে ফ্রুট ব্যাগ কিনতে হওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। এতে কাক্সিক্ষত দাম পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে চাষিদের মধ্যে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নওগাঁর ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এসব বাগান থেকে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৬ হেক্টর জমিতে আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি জাতের ১ কোটি ১১ লাখ ৫১ হাজার ৫০০টি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। গত বছর সাপাহার ও পোরশা উপজেলা থেকে ২৮৪ টন আম মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছিল।
জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পতœীতলা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় আম উৎপাদন হয়। জেলার মোট আমবাগানের প্রায় ৭০ শতাংশই এসব উপজেলায় অবস্থিত। এখানে আম্রপালি, গোপালভোগ, খিরসাপাত, হিমসাগর, বারি-৪সহ প্রায় ১৬ জাতের আম চাষ করা হয়।
চাষিরা জানান, এপ্রিল থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময় আমে ফ্রুট ব্যাগিং করার উপযুক্ত সময়। কিন্তু এ বছর বাজারে পর্যাপ্ত ফ্রুট ব্যাগ না থাকায় অনেকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাগিং করতে পারেননি। সাধারণ আম যেখানে সর্বোচ্চ চার হাজার টাকা মণ বিক্রি হয়, সেখানে ফ্রুট ব্যাগিং করা আমের দাম প্রজাতিভেদে সাত থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়।
পোরশা উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রায়হান আলম বলেন, তার ২২০ বিঘা জমির আমবাগানে এ বছর পাঁচ লাখ আমে ফ্রুট ব্যাগিং করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সময়মতো ব্যাগ না পাওয়ায় আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও বারি-৪ জাতের আমে ব্যাগিং করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত গৌড়মতি জাতের প্রায় সাড়ে চার লাখ আমে ব্যাগিং করতে পেরেছেন। প্রতিটি ব্যাগ ৩ টাকা ৭০ পয়সার পরিবর্তে ৬ টাকা ২০ পয়সা দরে কিনতে হয়েছে।
একই উপজেলার আমচাষি বাবুল আক্তার জানান, গত বছর ২০ হাজার আমে ফ্রুট ব্যাগিং করে ভালো দাম পেয়েছিলেন। এবার ৫০ হাজার আমে ব্যাগিংয়ের পরিকল্পনা থাকলেও ব্যাগ সংকটের কারণে মাত্র ১০ হাজার আমে ব্যাগিং করতে পেরেছেন। ফলে প্রত্যাশিত লাভ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
সাপাহারের কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা বলেন, চলতি মৌসুমে তার তিন লাখ ফ্রুট ব্যাগের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে মাত্র ৬০ হাজার ব্যাগ সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
চাষিদের মতে, গত কয়েক বছরে নতুন আমবাগানের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে ফ্রুট ব্যাগের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সরবরাহ সেই অনুপাতে না বাড়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা ম-ল বলেন, রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফ্রুট ব্যাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের মধ্যে নিরাপদ ও উত্তম কৃষিচর্চার আগ্রহ বাড়ায় এ বছর ফ্রুট ব্যাগের চাহিদা অনেক বেড়েছে। শেষ সময়ে বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাগ সরবরাহ করতে পারেনি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন