নীলফামারীতে পৃথক দুই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে দুজন নিহত এবং পুকুরে ডুবে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের বাবু বাজার এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে দুজনের মৃত্যু হয় এবং একজন আহত হন।
নিহতরা হলেনÑ নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের কুঠিপাড়া নদীপাড় এলাকার মৃত আব্দুর রউফের ছেলে মজিবর রহমান (৫৫) এবং কচুকাটা ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দিন (৪৫)। আহত ব্যক্তি মিঠু ইসলাম (৩৫), তিনি নিহত মজিবর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ওই এলাকার একটি পুকুরে বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র ব্যবহার করে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে মাছ ধরার কাজ চলছিল। এ সময় সেচ পাম্পের থ্রি-ফেজ বৈদ্যুতিক লাইনের তার পানিতে পড়ে গেলে মুহূর্তেই পানিতে বিদ্যুৎস্পর্শ হন তারা। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, খোলা ও অরক্ষিত বৈদ্যুতিক সংযোগের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নীলফামারী সদর থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে একই দিন সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের মোজাহারের টারি এলাকায় পুকুরে ডুবে স্বপন ইসলাম (২৮) নামে আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই এলাকার তৈয়ব আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বপন ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) তিনি রান্নার জ্বালানি সংগ্রহের জন্য খড়ি আনতে বাড়ি থেকে বের হন, এরপর আর ফিরে আসেননি। বুধবার সকালে বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়সংলগ্ন পুকুরে তার মরদেহ ভেসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় পুকুরপাড়ে খড়ির একটি বোঝাও পাওয়া যায়। স্থানীয়দের ধারণা, খড়ি সংগ্রহের সময় খিঁচুনি উঠায় তিনি পুকুরে পড়ে গিয়ে ডুবে মারা যান।
ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মশিউর রহমান বলেন, ‘স্বপন দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, খড়ি সংগ্রহের সময় খিঁচুনি উঠায় তিনি পানিতে পড়ে যান এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলটি নির্জন থাকায় কেউ বিষয়টি দেখতে পারেনি।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন