রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে রোগীর স্বজনদের হাতে ডিউটিরত চিকিৎসক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ চিকিৎসকেরা জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে বিক্ষোভ করছেন। অন্যদিকে, মরদেহের দাবিতে হাসপাতালের সামনের মহাসড়ক অবরোধ করেছেন রোগীর স্বজনেরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সিসিইউতে চিকিৎসাধীন এক রোগীর অক্সিজেন মাস্ক না পাওয়ার অভিযোগ তোলেন তার স্বজনেরা। রোগীর মৃত্যুর পরপরই স্বজনেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ডিউটিরত চিকিৎসককে মারধর করেন। এই হামলার প্রতিবাদে চিকিৎসকেরা জরুরি সেবা কার্যক্রম স্থগিত করে মর্গের সামনে মরদেহ আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন।
অন্যদিকে, রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসা অবহেলার কারণেই তাদের রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের দাবি, এই অবহেলার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই চিকিৎসকেরা মরদেহ আটকে রেখেছেন। দ্রুত মরদেহ হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে তারা হাসপাতালের সামনের মহাসড়ক অবরোধ করেন, যার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
পাল্টা অভিযোগে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোগীর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি এবং স্বজনেরা বিনা উসকানিতে চিকিৎসককে মারধর করেছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেছে। রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিরসনে আলোচনা চলছে এবং খুব দ্রুত একটি সমাধান আসবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টা) উভয় পক্ষের অবস্থান অনড় থাকায় হাসপাতালের জরুরি সেবা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে আছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন