ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

ডিওর মেয়াদ পেরিয়ে গুদামে সরকারি চাল

খলিল উদ্দিন ফরিদ, ভোলা
প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০৬:২৬ এএম

ভোলার তজুমদ্দিনে সমুদ্রগামী জেলে ও ভিজিডি কর্মসূচির সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলনের জন্য ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) ইস্যু করা হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিপুল পরিমাণ চাল খাদ্যগুদামে পড়ে থাকার ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে চাল উত্তোলন না হওয়ায় একদিকে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত উপকারভোগীরা সময়মতো খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় প্রতিমাসে ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের জন্য ডিও ইস্যু করে। তবে ডিওর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও প্রায় ১৫৫ টন চাল এখনো সরকারি গুদামে পড়ে রয়েছে।

গুদাম সূত্রে জানা যায়, মেয়াদোত্তীর্ণ ডিওর আওতায় চাঁদপুর ইউনিয়নের পাঁচ মাসের, চাঁচড়া ইউনিয়নের তিন মাসের, বড় মলংচড়া ইউনিয়নের চার মাসের, সোনাপুর ইউনিয়নের এক মাসের এবং শম্ভুপুর ইউনিয়নের দুই মাসের ভিজিডি চাল এখনো উত্তোলন করা হয়নি। এ ছাড়া জুন মাসের ডিও ইস্যু করা হয়েছে।

অন্যদিকে সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চালের মধ্যে চাঁদপুর ইউনিয়নের ১০ টন, সোনাপুরের ৭৫ টন, চাঁচড়ার ১৪ টন, বড় মলংচড়ার ৬ দশমিক ৫০ টন এবং শম্ভুপুরের ৪ টনসহ মোট ৩৪০ টন ৫০০ কেজি চাল গুদামে পড়ে রয়েছে। মে মাসের মধ্যে এসব চাল বিতরণের সময়সীমা শেষ হলেও এখনো তা উত্তোলন করা হয়নি।

এ অবস্থায় নতুন বরাদ্দের চাল ও ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে গুদাম কর্তৃপক্ষও দুশ্চিন্তায় রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ডিও ইস্যুর পর চাল উত্তোলনে অস্বাভাবিক বিলম্ব হলেও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি দেখা যায়নি। ফলে সরকারি খাদ্যশস্য দীর্ঘদিন ধরে গুদামে পড়ে রয়েছে। এতে নতুন খাদ্যশস্য সংরক্ষণেও চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, ডিও ইস্যুর মূল উদ্দেশ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাদ্যশস্য উত্তোলন করে উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ নিশ্চিত করা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি চাল গুদামেই পড়ে থাকে, তা হলে এর কারণ, দায় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরো উপজেলায় বরাদ্দের চাল বিতরণ না হওয়ায় অনেকেই অপেক্ষায় রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে তারা চাল হাতে পাননি। ফলে সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সুফল প্রত্যাশিতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

চাঁদপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শাজাহান মিয়া বলেন, ভিজিডি চাল পরিবহনের জন্য সরকার টনপ্রতি ৪৮০ টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু এ টাকায় চাল পরিবহন করা সম্ভব নয়। বাস্তবে টনপ্রতি ৬০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। অর্থের সমন্বয় না হওয়ায় গুদাম থেকে চাল আনা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ মার্জিয়া বলেন, তার জানামতে ডিও ইস্যু হওয়া সব চাল বিতরণ শেষ হয়েছে। তারপরও পরিবহন ব্যয়ের কারণে কোনো ইউনিয়ন চাল উত্তোলন করতে না পারলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে কাছাকাছি স্থান থেকে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল মালেক বলেন, ডিও হওয়া চাল উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ও দপ্তরগুলোকে নিয়মিত তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তারা চাল না নিলে গুদাম কর্তৃপক্ষের পক্ষে তা ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়। ডিওর মেয়াদ শেষ হওয়া চাল গুদামে সংরক্ষণ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই বলেও তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বনি আমিন বলেন, ডিও ইস্যু হওয়া সব চাল যত দ্রুত সম্ভব গুদাম থেকে বের করে উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।